মো. ইলিয়াস শিকদার। বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। বহু স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৬ সালে যোগ দেন বিডিআর-এ। সৈনিক পদে ভালোই কাটছিল দিন। হঠাৎ কালো ঝড়ে ওলট-পালট হয়ে যায় তার জীবনের হিসাব-নিকাশ। বলছি ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের কথা।
সেই সময় বিডিআর সদর দফতরে ছিলেন ইলিয়াস। প্রতিদিনের মতো নিজের দায়িত্ব পালন শেষে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমাতে যান তিনি। হঠাৎ ঘুম ভাঙতেই শুনতে পান গোলাগুলির শব্দ। সহকর্মীদের কাছে জানতে চাইলেও মেলেনি কোনো জবাব। তবু ১৬ বছর কাটাতে হয়েছে অন্ধকার জেলে। শুধুমাত্র মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়ায় তার জীবন থেকে চলে গেল এত বছর।
ইলিয়াস বলেন, সেই দিনের কথা মনে হলে এখনো গা শিউরে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের একটি গেম অনুষ্ঠান ছিল। আমি ভোরে নামাজ শেষে শুয়ে পড়ি। ঘুম ভাঙতেই চতুর্দিকে গুলির আওয়াজ। মুখে কালো কাপড় পরে কেউ কেউ দৌড়াদৌড়ি করছে। আমাদের আর বের হতে দেয়নি। এরপর পয়লা মার্চ আমাকে কাজে যোগ দিতে বলা হয়। তবে কয়েকদিন পর যোগ দেই।
কাজে যেতেই আমাকে আটক করা হয়। এরপর একটি বদ্ধঘরে আমাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বলা হয়। আমি তখন বললাম- ‘স্যার আমি তো কিছুই দেখিনি ওদের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। আমি ওদের চিনতে পারিনি। তারা আমার কথা বিশ্বাস করলেন না। আমাকে মিথ্যা সাক্ষীর জন্য জোর করতে লাগলেন।’ বললেন- তাদের কথামতো সাক্ষী না দিলে জেলে যেতে হবে। আমি বললাম, ‘স্যার আমি মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে পারবো না।’ এরপর মিথ্যা মামলায় আমাকে ২০১০ সালের ১০ মার্চ গ্রেফতার দেখানো হয়।
তিনি বলেন, সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমাকে একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। অবশেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমি জামিনে মুক্ত হই। একটি মিথ্যা মামলায় আমার জীবন থেকে ১৬ বছর চলে গেল। শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।
ইলিয়াস আরও বলেন, দীর্ঘদিন জেলে থাকার কারণে আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই। আমাদের কোনো জমি নেই। নদীতে সব ভেঙে গেছে। সন্তানদেরও মানুষ করতে পারিনি। বর্তমান সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ দয়া করে আমাদের মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিন। একই সঙ্গে চাকরির পুনর্বহালসহ পেনশনের ব্যবস্থা করে দিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

