মেসির প্রতিকৃতি এঁকে আলোড়ন তুলেছেন শিল্পী শরীফুল

উপজেলা প্রতিনিধি, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)

মেসির প্রতিকৃতি এঁকে আলোড়ন তুলেছেন শিল্পী শরীফুল
মেসির প্রতিকৃতি আঁকছেন শিল্পী শরীফুল শেখ। ছবি: আমার দেশ

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা থেকে বিশাল দেয়ালজুড়ে তার প্রতিকৃতি এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তরুণ শিল্পী শরীফুল শেখ। তার আঁকা ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন, ছবি তুলছেন এবং শিল্পীর সৃজনশীলতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদূরপুর এলাকার আড়কান্দি বাজার সংলগ্ন কয়েকটি দোকানের ফাঁকা দেয়ালে প্রায় ১৬ ফুট বাই ১০ ফুট জায়গা জুড়ে নিজ খরচে চারটি বড় আকারের ছবি এঁকেছেন শরীফুল। এর মধ্যে দুটি রঙিন এবং দুটি সাদা-কালো প্রতিকৃতি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই একান্ত ভালোবাসা ও আবেগ থেকে তিনি এ কাজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পেশাগতভাবে তিনি একজন কমার্শিয়াল আর্টিস্ট। পাশাপাশি ভেড়ামারায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রইং শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ।

শরীফুল শেখ বলেন, ‘২০০২ সাল থেকে তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রতি তার ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে। ২০০২ সাল থেকেই আমি আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। পরবর্তীকালে মেসির খেলা, ব্যক্তিত্ব ও সংগ্রামের গল্প আমাকে মুগ্ধ করে। তাই সুযোগ পেলেই তার ছবি আঁকার চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত বিশ্বকাপের সময়ও আমি মেসির একটি ছবি এঁকেছিলাম। এবারও সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে এবং ভালো লাগা থেকেই এই কাজ করেছি। কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না।’

আর্জেন্টিনা সমর্থক হাসান বলেন, এমন উদ্যোগ শুধু ফুটবলপ্রেমই নয়, শিল্পচর্চারও একটি দৃষ্টান্ত। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি দেখতে আসছেন এবং শিল্পীর সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন।

মোস্তফা হোসেন বলেন, গ্রামাঞ্চলে এমন বড় ক্যানভাসে আন্তর্জাতিক তারকার প্রতিকৃতি খুব একটা দেখা যায় না। শরিফুল শেখের আঁকা মেসির ছবি এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন ধরনের আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে শরীফুল শেখের শিল্পীজীবন শুধু মেসির প্রতিকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় কবি, সাহিত্যিক, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি এঁকে পরিচিতি লাভ করেছেন।

বিশেষ করে লালন সাঁইজির প্রতিকৃতি অঙ্কন এবং শিল্পচর্চায় তার নিষ্ঠা তাকে জাতীয় পর্যায়েও পরিচিতি এনে দেয়। তার প্রতিভা ও শিল্পকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পান তিনি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও নির্মাতা ছিলেন কিংবদন্তি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত।

মাহামুদ হোসেন বলেন, ‘লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও অনুপ্রেরণার নাম। শরীফুল শেখ যে ভালোবাসা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মেসির প্রতিকৃতি এঁকেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই নিজের উদ্যোগে এমন শিল্পকর্ম তৈরি করা সহজ বিষয় নয়। আমরা আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তার এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। এটি শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয় বরং নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি।”

শিল্পবোদ্ধাদের মতে, গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের কাছ থেকে উঠে আসা এমন প্রতিভাবান শিল্পীরা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন। শরীফুল শেখের মতো শিল্পীরা প্রমাণ করছেন, শিল্পচর্চার জন্য বড় শহর নয়, প্রয়োজন মেধা, অধ্যবসায় ও ভালোবাসা।

রং-তুলিতে ফুটে ওঠা মেসির প্রতিকৃতি আজ শুধু একজন ফুটবলারের ছবি নয় বরং একজন গ্রামীণ শিল্পীর স্বপ্ন, আবেগ ও সৃজনশীলতার উজ্জ্বল প্রকাশ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আড়কান্দি বাজারে তাই দেয়ালজুড়ে আঁকা সেই ছবিগুলো এখন স্থানীয় মানুষের কৌতূহল, প্রশংসা এবং গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন