শ্যামনগরে ১০ গুণীজন ও পাঁচ সাংবাদিক সংবর্ধনা

শ্যামনগরে ১০ গুণীজন ও পাঁচ সাংবাদিক সংবর্ধনা
সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের সম্মাননা নিচ্ছেন আমার দেশের শ্যামনগর প্রতিনিধি জি এম মনিরুজ্জামান (মিশুক)।

একজন শিক্ষক ১৯৫৫ সাল থেকে শিক্ষকতা করেছেন এবং লিখেছেন নিজের এলাকার ইতিহাস। একজন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আবার উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরি না পেয়ে গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করা এক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে সবজি চাষে সাফল্য এনে অন্য কৃষকদের পথ দেখিয়েছেন। এমন কীর্তিমান মানুষদের সম্মাননা জানাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নক্ষত্রের অভিবাদন’।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন গুণী ও পাঁচ সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সংবর্ধিত পাঁচ সাংবাদিকের মধ্যে বছরের সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের সম্মাননা পেয়েছেন আমার দেশের শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি জি এম মনিরুজ্জামান (মিশুক)।

গতকা শনিবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে ‘গুণীজনের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব। সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, জনসেবা, কৃষি, ক্রীড়া, সংগীত ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এতে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখা কয়েকজন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি এবং শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু।

অনুষ্ঠানে যাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়: সাহিত্যে অবদানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কেরামত উল্লাহ, শিক্ষায় অবদানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন কুমার মুখার্জি, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মিজানুর রহমান, কৃষিতে অবদানের জন্য মনোতোষ মণ্ডল, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার জন্য আলহাজ আরশাদ আলী মোড়ল, সমাজসেবায় আলহাজ আবুল কালাম বাবলা এবং ক্রীড়ায় অবদানের জন্য এস এম ফিরোজ হোসেন।

এ ছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা পান সাংবাদিকতায় আনোয়ার হোসেন মল্লিক, জনসেবায় বাবু বিশ্বনাথ দাস এবং সংগীতে গীতিকার ও সুরকার অনিমেষ ব্যানার্জি। ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ আশরাফিয়া দাওরা হাদিস মাদ্রাসায় অর্ধশতাব্দী ধরে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সংবর্ধনা পান হাফেজ আব্দুল আলী। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ও মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক জিহাদ আলীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন