পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিষাক্ত কেমিক্যালের সঙ্গে জেলি ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে একটি কারখানার মালিক ও কর্মচারীকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে কারখানার মালিক আবুল বাশারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া কারখানার কর্মচারী সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানকালে কারখানাটি থেকে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা মূল্যের ২ হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ লিটার সয়াবিন তেল এবং ৩২০ লিটার নকল দুধ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ। অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল করিম, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিনিধি এবং থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবুল বাশার দুধের ব্যবসার আড়ালে নিজ বাড়িতে বিষাক্ত কেমিক্যালের সাথে জেলি ও সয়াবিন তেল মিশিয়ে কৃত্রিম উপায়ে নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এসব নকল দুধ তিনি প্রাণ, ব্র্যাক ও ফারুক ডেইরিসহ বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করতেন। এভাবে অনৈতিক উপায়ে অল্প দিনেই তিনি বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যান। এর আগেও একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে নকল দুধ তৈরির অপরাধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হলেও তা বন্ধ হয়নি।
শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর এ দণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজালবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Ñএমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

