বগুড়ায় স্কুলগেটের অজুহাতে বলি ১৮ গাছ, অভিভাবকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া

বগুড়ায় স্কুলগেটের অজুহাতে বলি ১৮ গাছ, অভিভাবকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া

বগুড়া জিলা স্কুলে আগের প্রধান ফটক নতুন রূপে নির্মাণ করা হবে এই অজুহাতে বলি হলো ১৮টি গাছ। এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার স্কুল ভবনে পরিদর্শনে দেখা যায়, কাটা গাছ গুলোর মধ্যে রয়েছে মিনজিরি ১টি, মেহগনি ১১ টি,পাম ট্রি ২টি, বকুল ১টি, লম্বু ২টি ও ১টি দেবদারু গাছ কেটে ফেলছেন নিলামে নেয়া ঠিকাদার। দুপুরেও তাদের নিলামের গাছ কাটার দৃশ্য চোখে পড়ে। বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন তিনি। এর আগেও ভবন নির্মাণের জন্য ৫৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

জিলা স্কুল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ সালে প্রকাশ্য ডাকে পানির দরে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকায় গাছগুলো কিনে নেয় তোফায়েল আহমেদ নামের একজন ঠিকাদার। তার কাছ থেকে সেখানেই ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রানা মিয়া নামে একজন ব্যক্তি আবার গাছগুলি কিনে নেয়। সেই ব্যক্তি গত কয়েকদিন ধরে গাছগুলো কেটে নিচ্ছে। বিদ্যালয়ে ফটকের দিকে তাকাতেই ফাঁকা মনে হচ্ছে। ভিতরে গিয়ে দেখা যায় ঠিকাদারের লোকজন ফটকের পশ্চিম ধারের বিশাল বড় মিনজিরি গাছ কাটছেন। সেখানে ঘুরাফেরা করছেন শিক্ষার্থীরা। একটু অসাবধানতায় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অভিভাবক তাহেরা বেগম বলেন যে, স্কুলে বাচ্চা রেখে আমরা এখানে বসতাম। গাছের ছায়া লাগত। এখন তা শূন্য শূন্য লাগছে। টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের শিক্ষার্থীরা দৌড়াদৌড়ি করছেন। যা বিপজ্জনক হতে পারে।

এ ব্যাপারে বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ডানিয়েল তাহের বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। তবে কিছু আগে শুনলাম। আমাকে স্কুল থেকে কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি একসময় এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিলে অবশ্যই বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ কাটার নিয়ম থাকলে তার ব্যত্যয় ঘটেছে।

তিনি আগের গাছ কাটা প্রসঙ্গে বলেন, আগের গাছগুলি কাটাও ছিল নিয়মবহির্ভূত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন