কোরবানির ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও পাবনার ঈশ্বরদীতে জমেনি পশুর হাট। হাটে দেশি গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। বিশেষ করে গরু নিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেই হতাশা বেশি।
ঈশ্বরদীর অরণকোলা উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট। এ হাটে শুধু গরু ও মহিষ কেনাবেচা হয়। আরেক পশুর হাট সাহাপুর ইউনিয়নের আওভাপাড়ায় বিপুল গরু ও ছাগল বিক্রি হয়ে থাকে। হাট দুটি সরকারিভাবে ইজারাদার দ্বারা পরিচালিত।
মঙ্গলবার অরণকোলা ও রোববার আওতাপাড়া হাটে গরু-ছাগল কেনাবেচা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য হাট-বাজারেও পশু কেনাবেচা হয়ে থাকে।
ঈশ্বরদী প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায, ঈশ্বরদীতে গরু-ছাগলের ছোট-বড় খামারের সংখ্য ৩ হাজার ২৭টি। এসব খামারে কোরবানির জন্য ৭৩ হাজার ৫০০ পশু প্রস্তুত রয়েছে। অথচ চাহিদা ৪৩ হাজার গরু-ছাগল।
অরণকোলা হাটে দেখা যায়, স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী লালপুর, বনপাড়া, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া, ভেড়ামারা উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রির জন্য হাটে গরু আমদানি হয়েছে। সারিবদ্ধভাবে হাজার হাজার গরু বিক্রির জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় বিক্রিও নেই।
সড়ইকান্দি থেকে ৩টি গরু বিক্রি করতে আসা মুজাহিদুল ইসলাম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আশা ছিল লাভে গরু বিক্রি করে ফিরবো। কিন্তু বিক্রিতো দূরে থাক, দাম পর্যন্ত কেউ জিজ্ঞেস করেনি। এই হাটে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি।
গরু ব্যবসায়ী আয়নাল শেখ হাটে বিক্রি কম জানিয়ে বলেন, হাটে আনা ৭টি গরু কয়েকজন দেথে কম দাম বলায় বিক্রি করা যায়নি। এবার লোকসানে গরু বিক্রি করতে হবে।
হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান রুনু মন্ডল বলেন, হাটে গরুর পর্যপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা না থাকায় খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা চরম হতাশ। আগের বছরগুলোতে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল ল্যনীয়। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেখা যাক পরিস্থিতি কি দাঁড়ায়?
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, ঈশ্বরদীতে এবারে পশুর চাহিদা ৪৩ হাজার। পশুর। ৩ হাজার ২৭টি খামারে পশু প্রস্তুত করা হয়েছে ৭৩ হাজার ৫০০টি। বেশি লাভের আশায় এখানকার খামারিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি বিভাগের মেডিকেল টিম হাটে ক্যাম্প বসিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

