শহীদ রাতুলের পরিবারে অনিশ্চয়তা ন্যায়বিচারের অপেক্ষা

শহীদ রাতুলের পরিবারে অনিশ্চয়তা ন্যায়বিচারের অপেক্ষা
ছবি: আমার দেশ

জুলাই বিপ্লবে শহীদ জুনাইদ ইসলাম রাতুলের (১৩) পরিবারের সদস্যদের দিন কাটছে শোক আর অনিশ্চয়তায়। দুই বছরেও বিচার পায়নি তার পরিবার।

চব্বিশের ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে আহত হয় কিশোর রাতুল (১৩)। দীর্ঘ ৪৬ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের দুঃখের রেশ এখনো কাটেনি।

বিজ্ঞাপন

বগুড়ার সুলতানগঞ্জ পাড়ার রাতুল উপশহর পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা রোকেয়া বেগম। রাতুলের বাবা পেশায় মুদি দোকানি। দুই সন্তানের মধ্যে সে ছিল ছোট। পরিবারের স্বপ্ন ছিল তাকে শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু সে স্বপ্ন থেমে যায় তপ্ত বুলেটে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়া সদর থানার দিকে বড়গোলা থেকে একটি মিছিল যায়। সেটি লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। ঝাঁঝরা হয়ে যায় রাতুলের শরীর, সেখানেই লুটিয়ে পড়ে সে। আন্দোলনকারীরা উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে মৃত্যুবরণ করে রাতুল। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠী, শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের কাছে সে ছিল শান্ত, ভদ্র ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী।

শহীদ রাতুলের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার সন্তান কোনো অপরাধ করেনি। সে শুধু দেশের মানুষকে স্বৈরাচারতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে আন্দোলনে গিয়েছিল। এতদিন হয়ে গেল কিন্তু আমরা এখনো সঠিক বিচার পাইনি। জুলাই শহীদ পরিবারের খোঁজখবর তেমন কেউ নেয় না। আমরা শুধু চাই আমার সন্তান হত্যার বিচার হোক।’

তিনি বলেন, ’২৪ সালের ঈদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার নিয়ে এসেছিলেন আতিকুর রহমান রুমন (প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব) ভাই। চব্বিশের ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক হোসনে আফরোজ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এর মাঝে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা খোঁজখবর নিয়েছেন, আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। সবশেষ গত ১ জুলাই জেলা ছাত্রশিবিরের লোকজন এসে কবর জিয়ারত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রতি সপ্তাহে পরিবারের লোকজন মিলে রাতুলের জন্য দোয়ার ব্যবস্থা করি। আমাদের স্বার্থের মধ্যে এছাড়া আর কিছুই করার নেই। তিনি রাতুলসহ জুলাই বিপ্লবে শহীদদের বিচার দ্রুত করার দাবি জানান।

জুলাই শহীদ পরিবার সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি উজ্জ্বল হোসেন জুবায়েল বলেন, আন্দোলনের সময় নিহত ও আহতদের পরিবারগুলো শুরুতে কিছু সহানুভূতি পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কমে গেছে। অনেক পরিবারই এখন আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ এবং সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের অবস্থা বেশি নাজুক।

মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ন্যায়বিচার শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভুক্তভোগী পরিবারের পুনর্বাসন ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সুশাসনের জন্য প্রশাসনের (সুপ্র) সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, জুলাই শহীদদের বিচার আমরা দ্রুত দেখতে চাই।

নগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, বর্তমান সরকার অবশ্যই জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে তৎপর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন