দিনাজপুরের খানসামার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আমন চাষের প্রাণচাঞ্চল্য। টানা বৃষ্টি ও বন্যার ধকল কাটিয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা। কোথাও বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে, কোথাও আবার কাদামাখা জমিতে সারিবদ্ধভাবে চলছে চারা রোপণের কাজ।
ভোরের আলো ফুটতেই কাঁধে ধানের চারা আর মনে সোনালি ফসলের আশা নিয়ে মাঠে ছুটছেন তারা। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, মাটির গন্ধ আর সবুজ চারার সমারোহে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার কৃষিজমিগুলো। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের বুকে কৃষকেরাই আঁকছেন আগামী দিনের সমৃদ্ধির ছবি।
উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আমন রোপণের কাজে কৃষকদের ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাদ সম্পন্ন করতে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। শ্রমিকেট সংকট থাকলেও থেমে নেই চাষাবাদ। কারণ কৃষকদের বিশ্বাস, সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলনও হবে আশানুরূপ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতেও দ্রুতগতিতে রোপণের কাজ চলছে।
ছাতিয়ান গড় গ্রামের কৃষক জবেদ আলী বলেন, ‘এ বছর সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় আমন চাষে বেশ সুবিধা হয়েছে। সেচের খরচ কম লেগেছে, জমিতেও পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রয়েছে। এখন চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি। তবে সার ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে কিছুটা চিন্তা আছে।’
গোয়ালডিহি ইউনিয়নের কৃষক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমন ধানই আমাদের প্রধান ভরসা। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছি। সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। এবার ধানের ভালো উৎপাদন হলে কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।’
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘চলতি মৌসুমে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উপজেলায় প্রায় ৭১ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের আশা করছি।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

