চরম দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার

গঙ্গাচড়ায় ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

গঙ্গাচড়ায় ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত
ছবি: আমার দেশ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডহরা এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এতে শতাধিক পরিবার বর্তমানে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে এলাকায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বড় আকারের শিলাবৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যে অনেকের বসতঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে যায় এবং অনেক ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ফলে রাতের মধ্যেই অসংখ্য পরিবার ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সুজা মিয়া, রফিকুল, সুমন, জাহানুর, লাভলু মিয়া, রহেল উদ্দিন, আসেদা বেগম, মনু মিয়াসহ আরও অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘরের টিন শিলাবৃষ্টির আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে, ফলে বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সুজা মিয়া বলেন, ঘুমের মধ্যে ছিলাম, হঠাৎ ঝড় শুরু হয়েছে। কিছু বুঝার আগেই ঘরের চাল উড়ে গেল। এখন বাচ্চাদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি।‌ রফিকুল জানান, শিলাগুলো এত বড় আছিল যে টিনের চাল একেবারে ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর সব পানি ঢুকে গেছে, এখন থাকার মতো কোনো অবস্থাই নেই।

সুমন বলেন, কষ্ট করে ঘর বানাইছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। আবার নতুন করে ঘর তোলা আমার পক্ষে সম্ভব না। লাভলু মিয়া জানান, ঘরের টিনে অনেক জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, এখন ঘরে থাকা যায় না।

রহেল উদ্দিন বলেন, আগেও নদী ভাঙনে ক্ষতি হয়েছে। এখন এই ঝড় আমাদের আবার বড় বিপদে ফেলছে। আসেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাতে বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। ঘরের ভেতর পানি ঢুকতেছিল। এখন কোথায় থাকবো বুঝতেছি না।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের সময় মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটিয়েছে। এখন দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে ঘরবাড়ি মেরামত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নোহালী ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল হক বুলেট বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে শতাধিক পরিবারের ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব দ্রুত তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি যাদের ঘরবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...