নদীর পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনেশ্বরী নদীর তলদেশে ইরি-বোরো ধানসহ রবিশস্য চাষাবাদ শুরু করেছেন প্রভাবশালীরা। নদীর তলদেশে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা, আবার কোনো কোনো এলাকায় আরো আগে লাগানো হয়েছে ইরি-বোরো ধান।
এসবের পাশাপাশি কোথাও কোথাও রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে নদীর তলদেশের দিকে নজর রাখলে মনে হয় না এটা এক সময়ের প্রমত্ত যমুনেশ্বরী নদী ছিল। তবে নদীর তলদেশের জমিতে যে চাষাবাদ হয়, এ ফসলের কোনো জরিপ কৃষি অফিসে নেই।
নাব্য সংকটে শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বিগত কয়েক যুগ ধরে যমুনেশ্বরী নদীর এ দৈন্যদশা চলছে। নদী দখল রোধে প্রশাসনের কোনো নজর না থাকায় দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। সাধারণত নদীতীরবর্তী যারা প্রভাবশালী, তারাই নদী দখল করে চাষাবাদ করেন। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদী দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এজন্য মাঝেমধ্যে নদীতীরবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ হয়ে থাকে।
সরেজমিন দেখা যায়, শুধু মাধাই নয়; উপজেলার কুতুবপুর, মধুপুর, রাধানগর, দামোদরপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনেশ্বরী নদীর দুদিকে বিশাল চর পড়েছে। সে চর দখল করে চাষাবাদ করে থাকেন প্রভাবশালীরা।
তবে নদীর তলদেশ নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে শুষ্ক মৌসুম এলেই তলদেশ (চর) দখলে নেয় লাঠিয়াল বাহিনীগুলো। তারা চাষাবাদের অজুহাত তুলে পানির গতি পরিবর্তন করে থাকে। দেখার কেউ না থাকায় নির্বিঘ্নে প্রভাবশালীরা এসব করছেন।
গাছুয়াপাড়া এলাকার মনজুরুল ও মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমরা হতদরিদ্র হলেও নদীতে চাষবাদ করার কোনো সুযোগ পাই না। যাদের জমিজমা আছে, তারাই নদী দখল করে সব সময় চাষাবাদ করেন। পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা নেমে পড়েন নদির তলদেশে।
বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আইয়ুব আলী আমার দেশকে বলেন, তার এলাকায় মাধাই খামার, বানিয়াপাড়া, পেশকারপাড়া ও অরুন্নেসার বিশাল অংশজুড়ে চর পড়ে যাওয়ায় মানুষ সেখানে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
নদীতে চাষাবাদ করা কুতুবপুরের বাবু সিংহ বলেন, নদীর চরে চাষাবাদ করলে বাড়তি কিছু ফসল পাওয়া যায়। এতে সংসারের কিছুটা উন্নতি হয়। এভাবে বিভিন্ন চাষাবাদের মাধ্যমে যমুনেশ্বরী নদীর গতিপথ বদলে গেছে বলে দাবি করেন নদীতীরবর্তী এরাকায় বসবাস করা লোকজন।
কুতুবপুর ইউপির সহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহজালাল বলেন, নদীতে জমি ভেঙে যাওয়ার পর এটি খাস খতিয়ানে চলে যায়। তাই নদীর তলদেশে অবৈধভাবে চাষাবাদ করছেন প্রভাবশালীরা।
তিনি আরো বলেন, নদীতে চর পড়লে কখনো চাষাবাদের উপযোগী হলে সেটা ভূমি অফিস থেকে জরিপ করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করার পর ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার নিয়ম আছে। সেক্ষেত্রে প্রভাবশালী বা ভূমি মালিকরা কখনো সে খাস জমির দাবিদার হতে পারেন না। তবে যেই এ জমির বন্দোবস্ত পান না কেন, কোনোভাবেই নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে চাষাবাদ করতে পারবেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ আমার দেশকে জানান, এ উপজেলায় চরাঞ্চলের কত হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে, সে পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের শস্যের চাষাবাদ হয়ে থাকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার নদীর তলদেশে কত একর জমি চাষাবাদের উপযোগী, সে হিসাব এখানে নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

