রংপুরের পীরগাছায় নির্মাণাধীন উপজেলা স্টেডিয়াম প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ ও সড়ক অবরোধের ঘটনার পর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
শনিবার দুপুরে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন নির্মাণাধীন স্টেডিয়াম এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, নির্মাণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনওর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি, উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সানোয়ার মোর্শেদ, পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক এবং আমিনুল ইসলাম রাঙাসহ সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন, স্টেডিয়াম নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, ভিটি বালু, চিকন রড এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণকাজে নানা অনিয়ম চলে আসছে।
পীরগাছায় স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়ম, বাধা দেয়ায় স্থানীয়দের মারধর
অভিযোগকারীরা জানান, নির্মাণকাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পীরগাছা-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের সিডিউল ও নির্মাণমান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে শুক্রবার স্থানীয়দের অভিযোগের পর উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু কাজ বন্ধ রাখলেই হবে না, একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পের তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পীরগাছা উপজেলা স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

