রাজিবপুরে চড়া দামে সার বিক্রি ও লুটপাট, ডিলার বাতিল চেয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ

রাজিবপুরে চড়া দামে সার বিক্রি ও লুটপাট, ডিলার বাতিল চেয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে দুই বিসিআইসি ডিলারের বিরুদ্ধে। ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামের প্রতি বস্তা সার ১ হাজার ৭৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, বাজারে সারের সংকটের সুযোগ নিয়ে কতিপয় ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন। এতে ফসলের উৎপাদন খরচ বহুলাংশে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ চাষিরা। অভিযুক্ত দুই ডিলারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও এলাকায় নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চলছে।

গতকাল বুধবার স্থানীয় শিবেরডাঙ্গী বাজারে ‘মেসার্স সার ঘর’ ও ‘মেসার্স আমিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সরকারি দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি শুরু করে। বাধ্য হয়ে সাধারণ কৃষকেরা ১ হাজার ৩৫০ টাকার সার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় কিনতে থাকেন। এভাবে প্রায় ১০০ বস্তা সার বিক্রি হওয়ার পর উপস্থিত কৃষকেরা একত্রিত হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে জনরোষ ও জনতার চাপের মুখে ডিলারেরা বাধ্য হয়ে সরকারি নির্ধারিত দামে সার বিক্রি শুরু করেন।

এ বিষয়ে মেসার্স সার ঘরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হাই বলেন, আমি এবং মেসার্স আমিনা এন্টারপ্রাইজের মালিক আসাদ দুজনে এলাকার সারের ঘাটতি মেটাতে চট্টগ্রাম থেকে এক ট্রাক সার কিনে এনে বিক্রি করছিলাম। বিক্রি চলাকালীন হঠাৎ উপস্থিত জনতা চাপ প্রয়োগ করে ট্রাক থেকে সার নিয়ে যায়।

অন্যদিকে, সার বিতরণে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ তুলে ‘মেসার্স শফিউর এন্টারপ্রাইজ’ নামের আরেক ডিলারের গোডাউন থেকে আনুমানিক ২৫০ বস্তা সার ছিনতাই ও লুটের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কত বস্তা সার ছিনতাই হয়েছে এবং এতে কারা জড়িত ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ডিলার শফিউর রহমান শফি জানান, ‘আমার নিজ বাড়ির গোডাউন থেকে সার বিক্রি করা হচ্ছিল। দোকানের সামনে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ছিল। আমার অনুপস্থিতিতে একদল বিশৃঙ্খলাকারী দোকান ঘরের দরজা ভেঙে কিছু সার লুট করে নিয়ে যায়। তবে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সারের বস্তা উদ্ধার করে ফেরত পাওয়া গেছে, বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, হয়রানি ও অনিয়মের প্রতিবাদে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে দুপুরে ঝাড়ু ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

জাউনিয়ার চর লম্বাপাড়া গ্রামের কৃষক বাবুল আক্তার বলেন, আমি ও আমার গ্রামের অনেকেই ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ চাষিদের সার না দিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে সুবিধাবাদীদের সার দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুহিন জানান, অনিয়মের অভিযোগে মেসার্স শফিউর এন্টারপ্রাইজকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিস) দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এলাকায় সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই; তবে আগাম ভুট্টা চাষের জন্য কৃষকেরা একযোগে সার সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চর রাজিবপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, সার লুটের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রতিহত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...