সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফের চাল চুরির প্রতিবাদ করায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নে সোহেল মিয়া নামে এক যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ফরিদ মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ ভুক্তভোগী সোহেল মিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন সহকারী কমিশনার নাদরুন বিন আকন-কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। যদিও নির্ধারিত ১ এপ্রিল তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ বহরা ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ১৪ টন ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় কিছু উপকারভোগী চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। পরে পরিষদের পাশের একটি দোকান থেকে ৪-৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়, যা বিতরণের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সোহেল মিয়া বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদ মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোহেল মিয়া বলেন, “চাল পাচারের বিষয়টি আমি ধরিয়ে দিয়েছিলাম। এজন্য আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ মিয়া বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তাকে শুধু শাসন করা হয়েছে।”
এদিকে, ১ এপ্রিল তদন্তের খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সাংবাদিক মোজাহিদ মসি-র ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ইউপি সদস্য এনামুল হক ফয়সল-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনামুল হক ফয়সল বলেন, “সাংবাদিকের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, তবে ভুল সংবাদ প্রচারের কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

