সুনামগঞ্জে দুদক কমিশনার

গণশুনানিতে ঘুস, দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিকারের আশ্বাস

গণশুনানিতে ঘুস, দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিকারের আশ্বাস

সুনামগঞ্জে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণশুনানিতে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে হয়রানি ও দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে এই গণশুনানির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও দুদক।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন।

গণশুনানিতে পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, শিক্ষা অফিস, স্বাস্থ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআরটিএ, কৃষি অফিস, সমাজ সেবা, ট্রাফিক, পিআইও বিদ্যুৎ, পৌরসভা, এলজিইডি, সড়ক ও জনপদ, সাবরেজিস্ট্রারসহ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫৫টি অভিযোগ জমা পড়ে।

গণশুনানিতে শাল্লার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন নবী বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও দুদকের ডাকে সাড়া না দিয়ে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকেন। এবং দুদকের এক কর্মকর্তাকে ফোনে 'আপনারা যা পারেন তাই করতে' বলেন। বিষয়টি নিয়ে শুনানিতে আলোচনা হলে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করবেন বলে জানান। জেলা প্রশাসক তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এলজিইডি, পাসপোর্ট অফিস ও জেলা নির্বাচন অফিসে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এসব খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এছাড়া সেবা প্রাপ্তিদের সমস্যা সমাধানে সময়ও বেঁধে দেন। এসব অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনেন দুদক কমিশনার।

এসময় প্রধান অতিথি বলেন, 'মানুষ এখন দুর্নীতির বিষয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। বিভিন্ন অফিস আদালতে মানুষ এখন মন খুলে কথা বলতে পারছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষের হাতের কাছেই এখন সব কিছু মিলছে। বাংলাদেশে বসে মানুষ জানতে পারছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরে কি হচ্ছে। যার কারণে আশেপাশের ঘটনা মানুষ নিজ চোখেই দেখতে পারছে। যার কারণে সহজে দেশের অনিয়ম দুর্নীতি ধরা পড়ছে। অবৈধভাবে যারা সফল হয়েছে, দুর্নীতি হচ্ছে তাদের হাতিয়ার, এর জন্যই দেশের মানুষের মনে যে ক্ষোভ জন্মেছিল, সেটির জন্য চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান।'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, রিকশা চালকরা কোনো দিনও ঘুস খায় না- দুর্নীতি করে না। তারা ২শ টাকা ৫শ টাকাই তাদের ঘর সংসার চলে। বেশিরভাগই যাদেরকে সরকার আমানতদারি ও বিশ্বস্ত করে চেয়ারে বসায়, তারাই দুর্নীতি-লুটপাট করে।'

তিনি আরও বলেন, '৫ আগস্টের পরে দুর্নীতি কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। স্বাধীনভাবেই গণমানুষের সাথে কাজ করতে পারছে। যার কারণে প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে বিভিন্ন দপ্তরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'যে ঘুস চাইবে তার বিরুদ্ধে চিৎকার করবেন, মানুষ জড়ো করবেন, প্রতিবাদী হবেন। প্রতিবাদ করতে কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লাগে না, প্রতিবাদ করতে কোনো শিক্ষা লাগে না। প্রতিবাদ করতে লাগে সৎসাহস। প্রতিবাদে কাজ না হলে দুদককে জানান। দুদকের জালে আটকা পড়লে বের হতে পারবেন না। অতএব ঘুস, দুর্নীতি করবেন না। সাবধান হয়ে যান।'

পুরো অনুষ্ঠানের মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন সভার সভাপতি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন