সিলেট আম্বরখানা-এয়ারপোর্ট সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধের পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়েছেন চা-শ্রমিকরা। এরআগে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রবেশদ্বারে সড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে বিকেল ৩টায় দিকে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন চা শ্রমিকরা।
১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে গিয়ে লিখিতভাবে তাদের দাবি জানান। এসময় ইউএনও আশ্বাস দিলে চা শ্রমিকরা তাদের দাবি পূরণে এক সপ্তাহের সময় বেধে দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
এ দিকে গত ২০ সপ্তাহ ধরে বেতন পাচ্ছেন না তিনটি চা বাগানের প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক। বকেয়া বেতন, বোনাস ও রেশন পরিশোধ, বসত বাড়ি নির্মাণ ও মেরামত, চিকিৎসা সেবা চালু ও ঔষধ প্রদান, চা বাগানের গাছ কাটা ও বিক্রি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে করে আসছিলেন চা শ্রমিকরা।
অবরোধ চলাকালে শ্রমিকরা বলেন, বেতন ও রেশন না পাওয়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন তারা। বুরজান চা-কোম্পানির অধীনে থাকা আড়াই হাজার শ্রমিকের বেতন-রেশন ও বোনাস বকেয়া পড়েছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা তিন বেলা খাবার খেতে পারছে না। পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। মলিকপক্ষ বেতন দিচ্ছে-দিচ্ছে বলে সময়ক্ষপন করে যাচ্ছে। কবে তাদের বেতন দেবে তার ঠিক নেই।
প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সিলেটের কালাগুল চা বাগানে কাজ করছেন জাসদা বাউড়ি। তিনি জানান, যখন প্রথম কাজ শুরু করি, তখন দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৬ টাকা। বছরের পর বছর ধরে, তার মজুরি এবং রেশন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এতোদিনের কাজে কখনো ২০ সপ্তাহ বেতন না পাওয়ার মতো সংকটের মুখোমুখি হয়নি।
কালাগুলের চা শ্রমিক নেতা সোহাগ ছত্রী বলেন, আমাদের বারবার বলা হচ্ছে যে আমাদের ‘আজ অথবা কাল’ বেতন দেওয়া হবে, কিন্তু তা কখনও হয় না। আমরা যখন অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি তখন বাগান মালিকরা বিদেশে ভ্রমণ করেন।
চা শ্রমিক ও চা-বাগান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক রঞ্জিত নায়েক রঞ্জু বলেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, কেউ তাদের কথা রাখেনি। আমরা অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু একটিও পূরণ হয়নি। তাই, আমাদের দাবি আদায়ের জন্য আমরা আজ মালনীছড়ায় সিলেট বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি।
এ ব্যাপারে বুরজান চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, কৃষি ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেছি আমরা। এখনও ঋণ পাইনি, পেলে শ্রমিকদের সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, কেবল শ্রমিকরা নয়, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও তাদের বেতন পাননি, কারণ বাগানগুলো লোকসানের মধ্যে আছে। তাই বেতন দিতে পারছে না।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) মো. আনোয়ার উজ জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২,৬০০ শ্রমিকের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় এবং চা বোর্ডের সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে কথা বলেছি।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মোহাম্মদ মাহবুব মুরাদ আমার দেশ-কে বলেন, সিলেটের সবগুলো বাগানের সার্বিক পরিস্হিতি পর্যালোচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক সুবর্ণা সরকারকে আহ্বায়ক এবং আরডিসি মাহমুদ আশিক কবিরকে সদস্য সচিব করে বাগান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সপ্তাহেই এই কমিটি কার্যক্রম শুরু করবে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে চা-শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে পরিবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

