বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহসান বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশে আসার পরপরই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হয়ে যাবে। এখন নির্বাচনের কথা বললেই ফেসবুকে একটা সমাজ এর বিরুদ্ধে কথা বলে। তারা একেবারে একাট্টা। আরও হাস্যকর বিষয়, তারা বলে ডক্টর ইউনূসকে ক্ষমতায় পাঁচ বছর থাকতে। এটা কীভাবে হয়? নির্বাচন ছাড়া কীভাবে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার দাবি তোলেন?
নাসের রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক থেকে দেড় বছর হতে পারে। এর বেশি না। মূলত অন্তর্বর্তী সরকার তিন থেকে ছয় মাসের হয়ে থাকে। এখন ফেসবুকে একটি গোষ্ঠী ডক্টর ইউনূসকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে ফেসবুকে ভোট নিচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসিনার অবৈধ নির্দেশে চৌদ্দশত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ চৌদ্দশত মানুষ হত্যার দায়ে তার ১৪ শতবার ফাঁসি হতে হবে। শুধু জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ হাজার মানুষ আহত হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে, বিকলাঙ্গ হয়েছে। হাসিনাকে ইন্ডিয়া থেকে এনে জেলখানার ফাঁসির দড়িতে নয়, বায়তুল মোকাররমের সামনে শোলের দড়িতে ঝোলাতে হবে।
শনিবার বিকালে কাগাবালাবাজারে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং আপার কাগাবালা ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাগাবালা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আছাদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক কবির উদ্দিনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসি মিসবাউর রহমান, মো. ফখরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান মজনু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়াছ আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদ।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোহিত ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান সোহানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
এর আগে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিকে নিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বদরুল আলম।
পরে সরাসরি গোপন ভোটের মাধ্যমে সভাপতি-সস্পাদক পদে নির্বাচন হয়। এতে সভাপতি পদে ২২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আকতার হোসেন দলা। সাধারণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান ২৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। দুটি বুথে বিকাল তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু ও বিএনপি নেতা আয়াছ আহমদ। তাদের সহযোগিতা করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান, কাজল মাহমুদ, শেরওয়ান আহমদ ও মিলাদ হোসেন।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির স্থায়ী যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদ জানান, কাগাবালা ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিলের মাধ্যমে সদর উপজেলার মোট ১২টি ইউনিয়নের ১৩টি ইউনিটের সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্মেলন ও গোপন ব্যালটের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

