বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র এম নাসের রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ বলে কোনো দল এখন আর নেই। অদূর ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব থাকার সুযোগ দেখতে পাচ্ছি না। এখন জুলাই বিপ্লবীরা এই খালি জায়গায় ‘ফিল ইন দ্য গ্যাপ’ পূরণের জন্য একটু খানি নড়াচড়া দিচ্ছেন। এরা পতিত স্বৈরাচারের দলের নেতাকর্মীদের আলকেল্লা টুপি পরিয়ে তাদের দলে আনার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে বর্তমানে একমাত্র বড় রাজনৈতিক শক্তি হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমাদের রাজনৈতিক শক্তি আগের মতোই দেশের জনগণের সাথে অটুট আছে।
নাসের রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবে ছাত্ররাও নেতৃত্ব দিয়েছিল এখন শুনছি উনারাও একটা দল ঘোষণ দিবেন। এ আন্দোলনে উনারা সামনের নেতৃত্বে ছিলেন কিন্তু পেছনের ভূমিকায় কে ছিল? পেছনের ভূমিকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। যে দলের ৮২৪ জন বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বাকি আরও দুই তিনশ বিএনপির সমর্থক এই ১৪০০ লোকের মধ্যে মারা গিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি কি এনিয়ে বড়াই করতেছে না কি? যে বিএনপির এত লোক মারা গিয়েছে। এ নিয়ে আমাদের দলের পক্ষ থেকে এই নিহত ৮২৪ জনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ওপর মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজকাল অনেকে মন্তব্য করেন ছাত্ররা আন্দোলন করেছে বলে বিএনপি রাজনীতি করতে পারতেছে। এই যে অপরিপক্ক ইমম্যাচিয়ুড ছেলেদের এসব কথাবার্তা। তিন সপ্তাহের আন্দোলন করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পড়ে যায়নি। তারমতো বিপদজনক ফ্যাসিস্ট তিন সপ্তাহের আন্দোলনেই পড়ে যায়নি। এটার প্রেক্ষাপট কে সৃষ্টি করেছিল। এটার প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং তার নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান করে দিয়েছিলেন।
সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার বিএনপির আয়োজনে পৌরসভা প্রাঙ্গণে জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরনের জন্য নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদদের দোসরদের নানান চক্রান্তের অপচেষ্টা প্রতিহতের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সিলেটে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী। জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব কাজী মাওলানা আব্দুর রহিমের পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য আব্দুল ওয়ালী সিদ্দীকি, মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, বকসী মিছবাউর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বদরুল আলম, যুগ্ম আহবায়ক মারুফ আহমেদ, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার মজুমদার ইমন, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক রেদোয়ান খান, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, জুড়ি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোস্তাকিম হোসেন বাবুল, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অলি আহমদ খান, কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক শোয়েব আহমেদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার রায়, মুজিবুর রহমান মজনু, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা শরিফুল হক সাজু, দুরুদ আহমেদ, শ্যামলী সুত্র ধর, কুলাউড়া বিএনপির সিনিয়র সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুসহ ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল, মহিলা দলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

