পার্কিং নিয়ে শ্রীমঙ্গলে রণক্ষেত্র, পুলিশসহ আহত ৬৪

পার্কিং নিয়ে শ্রীমঙ্গলে রণক্ষেত্র, পুলিশসহ আহত ৬৪

চাঁদ রাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। এতে পুলিশ সদস্যসহ ৬৪ জন আহত হয়েছেন। গদার বাজারে পৌরসভার ‘বিনা লাভের বাজারের’ পাশে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে ‘বিনা লাভের বাজারে’ সমর্থকদের নিয়ে আসেন সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া। এ সময় তিনি পার্কিংয়ে থাকা কয়েকটি অটোরিকশাকে চালকদের সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে চালকদের সঙ্গে মহসিন মিয়ার বাক বিতণ্ডা হয়। এ সময় চালকদের পক্ষ নিয়ে মহসিন মিয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ান সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আনার মিয়া। খবর পেয়ে দুপক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দুইদফায় এ সংঘর্ষে ‘বিনা লাভের বাজার’সহ একটি প্রাইভেট কার ও ৮টি টমটম গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থল চৌমহনা, হবিগঞ্জ রোডের গদার বাজার, স্টেশন রোড, দেওয়ান বেকারি, ঘরনী ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও এর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে টানা সাড়ে ৪ ঘণ্টার সংঘর্ষের ঘটনায় শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেকে ঈদের কেনাকাটা না করে খালি হাতে বাড়ি যান।

টমটম চালক আবুল কালাম আজাদ (৫২) বলেন, গত দুদিন থেকে মহসিন মিয়া গদার বাজার এলাকায় বিনালাভের বাজারের পাশে টমটম গাড়ি পার্কিং করে রাখাকে কেন্দ্র করে চালকদের গালাগাল করে আসছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই কারণে ওয়াজ উদ্দিন নামে এক টমটম চালককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এর জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে শহরের কেন্দ্রস্থল চৌমহনা, হবিগঞ্জ রোড, স্টেশন রোড, ভানুগাছ রোডে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় বাধ্য হয়ে পুলিশ ৫৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুজন টমটম চালক। তারা হলেন, শহরতলীর পশ্চিম ভাড়াউড়ার বাসিন্দা শফিকুর রহমান (২৬) ও ছত্তার মিয়া (৪২)। রাত পৌনে দুইটার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. সম্রাট কিশোর পোদ্দার জানান, ৩৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনজনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. আহমেদ ফয়সাল জামান জানান, ২৫ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমিনুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী সদস্যরা সাবেক পৌর মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু, তার ভাই সেলিম মিয়া, ছেলে মুরাদ হোসেন সুমন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আলকাছ মিয়াসহ ১৪ জনকে আটক করে ভোর ৪টার দিকে থানায় সোপর্দ করেন। আনার মেম্বারের ছেলেসহ তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ৩৮ জনকে আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন