সংবাদ সম্মেলনে বিসিএসএ কর্তৃপক্ষ

হিমাগারকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণাসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি

হিমাগারকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণাসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি

একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণে কেজি প্রতি ভাড়া অযৌক্তিকভাবে কমাতে চাপ প্রয়োগ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আর্থিক সংকটে থাকা হিমাগার পরিচালনা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) এর নেতারা।

বিজ্ঞাপন

হিমাগার মালিক ও আলু চাষি কৃষকদেরকে সুরক্ষা দিতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কৃষকদের সহনীয় পর্যায়ে আনতে হিমাগার শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ঘোষণাসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সংকট নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিসিএসএর কার্যালয়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া ও হিমাগার ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ, পরিচালক হাসেন আলী, গোলাম সারোয়ার রবিন, শরিফুল ইসলাম বাবু, চন্দন কুমার, মোকসেদ, ইদ্রিস আলী, সুশান্ত কুমার প্রামাণিক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবার দেশে চাহিদার চেয়েও বেশি অর্থাৎ এক কোটি ৩০ লাখ মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে। দেশের চাহিদা ৯০ লাখ মেট্রিকটনের বিপরীতে ৪০০টি হিমাগারে সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে মাত্র ৪৫ লাখ মেট্রিকটন। ফলে বিপুল পরিমাণ আলু হিমাগারের বাইরে থেকে যাবে। এ সংকট কাটাতে এবং কৃষকদের ন্যায্য দাম পেতে সরকারকে বিদেশে আলু রপ্তানির পথ তৈরি করতে হবে।

বিসিএসএ’র সভাপতি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত দণ্ড-সুদ সহ ব্যাংক ঋণের সুদ শতকরা ১৭ ভাগ থেকে কমিয়ে শতকরা ৭ ভাগ করা, বিদ্যুৎ বিলের ইউনিট প্রতি রেট পিক আওয়ারে ১৩.৬২ টাকা ও অফপিক আওয়ারে ৯.৬২ টাকার স্থলে ৫ টাকা করা, ভ্যাট প্রত্যাহার, উৎসে কর কর্তন (টিডিএস) প্রত্যাহার এবং ত্রৈমাসিক ঋণের কিস্তির পরিবর্তে ঋণের কিস্তি বাৎসরিক করাসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এ সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বর্তমানে ধার্যকৃত কেজি প্রতি আলু সংরক্ষণ ভাড়া ৮ টাকা থেকে কমে আসবে। তাই হিমাগারে আলু সংরক্ষণে যুক্তিসংগতভাবে নির্ধারিত কেজি প্রতি ৮ টাকা ভাড়ায় হিমাগার পরিচালনায় সকলের সহায়তা প্রয়োজন।

হিমাগারে প্রতিকেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করে এই নেতা আরো বলেন, বিগত ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বের না করায় হিমাগার মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েন। এতে ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণের কিস্তি নিয়মমাফিক পরিশোধ করতে না পারায় বিভিন্ন আর্থিক চাপ ও সমস্যা নিয়ে হিমাগার পরিচালনা করছেন, যা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, কোনো কারণে হিমাগার পরিচালনা করা সম্ভব না হলে আলু উৎপাদনকারী কৃষক, এ খাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়াসহ ব্যাপক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ২০২৫ সালে হিমাগারগুলো কেজি প্রতি ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে খরচ বিবেচনায় নিয়ে কেজি প্রতি ভাড়া ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ৮ টাকা কেজি প্রতি ভাড়া নির্ধারণের যৌক্তিকতা যাচাই করার জন্য আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ১০ হাজার মেট্রিক টনের একটি হিমাগারের অনুকূলে গৃহীত ব্যাংক ঋণের উপর যে সুদ আসে, তা কেজিপ্রতি আলু সংরক্ষণে রুপান্তর করলে খরচ দাঁড়ায় ৫.৮৬ টাকা এবং এর সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ ১.১০ টাকা যোগ করলে দাঁড়ায় ৬.৯৬ টাকা। যদি হিমাগারগুলো আর্থিকভাবে অসমর্থ হয়ে পড়লে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারে তবে নিয়মমাফিক বিদ্যুৎ বিভাগ পরের মাসে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু নষ্ট হয়ে যাবে, যা আলু সংরক্ষণকারী ও হিমাগার মালিক উভয়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।

তিনি আরো বলেন, হিমাগার শিল্প একটি মৌসুমভিত্তিক শিল্প। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ৩ মাস পর পর ব্যাংক ঋণের কিস্তি প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু হিমাগারে আলু সংরক্ষণ হয় মার্চ মাসে এবং খালাস হওয়া শুরু হয় জুলাই মাসে। যার ফলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঋণের কিস্তি প্রদান করতে না পারায় ঋণ খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। ফলে ১৫ শতাংশ ব্যাংক সুদের সঙ্গে আরও ২ শতাংশ সুদ যোগ হয়ে তা ১৭ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে।

বিসিএসএ নেতারা বলেন, বাস্তবতার নিরিখে হিমাগার পরিচালনায় বর্ণিত খরচগুলো সংকুলানে হিমশিম খেয়েও হিমাগার মালিকরা দেশের কৃষক ও জনসাধারণের কল্যাণের নিমিত্ত হিমাগারগুলো পরিচালনা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এর পরেও অনেক স্থানে হিমাগারে কিছু সুবিধাভোগী ও স্বার্থান্বেষী মহলরা অবরোধ করে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে কোনো উপায় না থাকায় আমাদেরকে হিমাগার পরিচালনা বন্ধ রাখতে হতে পারে। কেননা আলু সংরক্ষণকারীদের আলু হিমাগারে সংরক্ষণের পর তা যথাযথ সংরক্ষণপূর্বক তাদেরকে ফেরত দিতে হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন