রাজধানীর বাড্ডায় গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল আহসান সাধন হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী। গতকাল সোমবার বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করা হয়। জানা যায়, কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা গেছে।
কামরুল ইসলাম সাধন এলাকায় ডিশের ব্যবসা করতেন। ব্যবসার বিরোধসহ মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাব সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে। দ্রুত ধরা পড়বে খুনিরা-এমনটা প্রত্যাশা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কর্মকর্তাদের।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী আমার দেশকে বলেন, চেষ্টা চলছে। অপেক্ষা করুন। আস্থা রাখুন। পুলিশ তৎপর।
গত রোববার রাতে মধ্য বাড্ডার গুদারাঘাট চার নাম্বার রোডে কামরুল হাসান সাধনকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার সময়কার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে চেয়ার নিয়ে বসে ছিলেন কামরুল আহসান সাধনসহ আরো দুজন।
এ সময় হেঁটে নির্বিঘ্নে আসা দুজন পিস্তল দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে গুলি চালায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কামরুল আহসান সাধন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে যায়, বিএনপি নেতা, সাবেক কমিশনার কাইয়ুমের বাসার বিপরীতে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন কাইয়ুমের ভাগিনা কামরুল ও আরো একজন। এর মাঝে হঠাৎ দুজন এসে টার্গেটেড গুলি করে। কিলার দুজনই মাস্ক পরা ছিলেন।
এরপর ফাঁকা গুলি করতে করতে পালিয়ে যান শুটাররা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। কিলাররা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সেজন্য ইমিগ্রেশন বিভাগকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার নিহতের লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। নিহতের বুকের ডানে-বামে, পিঠে ও ঘাড়ে গুলি লেগেছে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খুনিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

