তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ, খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ এবং চায়ের দোকানকে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সেখানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হলে নিম্ন আয়ের কোনো বিক্রেতাদের ওপর প্রভাব পড়বে না।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়কারীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তামাক কোম্পানির মিথ্যাচার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে ৯টি সংগঠনের মাধ্যমে এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
প্রভাব না পড়ার কারণ হিসেবে বক্তারা বলেন, দেশে মাত্র ২.৪% ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র শুধুমাত্র তামাকজাত দ্রব্য হয়। আর দেশের মোট বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর মধ্যে মাত্র ১৮.৫% বিক্রিয়কেন্দ্র অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবসার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যে অতিরঞ্জিত দাবি করা হয়, এই গবেষণা তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তামাক বিক্রয় কমিয়ে এনে স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প পণ্যের দিকে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা গেলে, কর্মসংস্থানের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তামাক কোম্পানি অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তামাক আইন সংশোধন ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সিগারেট পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ এবং খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ করলে নিম্ন আয়ের প্রায় ১৫ লাখ খুচরা বিক্রেতাসহ তাদের পরিবারের আরও প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ গবেষণার মাধ্যমে সেটা প্রমাণিত হলো। তামাক কোম্পানির স্বার্থসংলিষ্টদের দাবীকৃতি সংখ্যার চেয়ে ত্রিশ ভাগের এক ভাগ মাত্র।
সভাপতিত্বে করে এইড ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আবু নাসের অনিক।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ সুশান্ত সিনহা, টিসিআরসির প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারহানা জামান লিজা, এইড ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক সাগুফতা সুলতানা প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

