সিনিয়র স্কেল পাসসহ সব শর্ত পূরণ করেও বছরের পর বছর পদোন্নতি পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডাররা চিকিৎসকেরা।
তারা বলেন, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ জট খুলে পদোন্নতির উদ্যোগ নিলে ষড়যন্ত শুরু করে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া এডহক চিকিৎসকেরা। যাদের নিয়োগ, পদোন্নতি অবৈধ ও রাজনৈতিক বিবেচনায়, তাদের এমন পদক্ষেপ রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্য ক্যাডাররা।
বুধবার হাইকোর্ট মাজার গেট সংলগ্ন শিক্ষা অধিকার চত্বরে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন স্বাস্থ্য ক্যাডাররা।
বিসিএস হেলথ ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক স্বাস্থ্য ক্যাডার চিকিৎসক কর্মকর্তা অংশ নেন। এ সময় "বিসিএস আমাদের সম্মান, সবাই মিলে রাখবো এর মান"-সহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় স্বাস্থ্য ক্যাডার চিকিৎসকদের।
এ সময় বক্তারা দাবি করেন, স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকে পদোন্নতি বঞ্চিত। অনেকের চাকরি জীবনের প্রায় ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও এমনকি উচ্চতর ডিগ্রি, সিনিয়র স্কেল পাস, চাকরি স্থায়ী হওয়াসহ পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ হওয়ার পরেও পদোন্নতি বঞ্চিত রয়েছেন।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর উল আলম সোহেল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, 'বিসিএস গাইনি ২১ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা ২২ বছর চাকরিকাল অতিক্রম হওয়ার পর ও সকল ধরণের যোগ্যতার শর্ত পূরণ হওয়ার স্বত্ত্বেও সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান নাই। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুপারনিউমারি পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জট খুলতে শুরু করেছে৷ এমতাবস্থায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের মদদপুষ্ট এডহক ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকগণ এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন, আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।'
ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'এডহক বিধিমালা ১৯৯৪ অনুযায়ী এডহক নিয়োগ অবৈধ। এডহকদের যাবতীয় অর্থনৈতিক সুবিধা ও পদোন্নতি অবৈধ। সুতরাং যাদের নিয়োগ - পদোন্নতি অবৈধ ও রাজনৈতিক বিবেচনায় তারা কোনোভাবেই স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকদের পদোন্নতি ঠেকাতে কোন ধরণের কোন দুঃসাহস দেখাবেন না।
অন্যান্যদের মধ্যে ফোরামের সহ সভাপতি ডা. এস এম বোরহান উদ্দিন, ডা. মনির হোসেন, ডা. আবদুল কাদির নোমান, কোষাধ্যক্ষ ডা. আবু মোহাম্মদ, যুগ্ন সম্পাদক ডা. মোজাম্মেল হক, ডা. মো. মেহেদী হাসান ও ডা. ফাতেহ আকরাম দোলন বক্তব্য রাখেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

