হোলি উৎসবকে ঘিরে ভারতে মসজিদ ঢেকে দেওয়া, কুকীচীন নারীদের ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
মঙ্গলবার বিকেল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ভারতে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন বন্ধ ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
এসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা তুলে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারত নিজেই তাদের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তারা মুসলমানদের রক্ত দিয়ে হোলি উৎসব করে। এমনকি তারা হোলি করতে গিয়ে মসজিদকে পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয়। তাদের রং মাখানোতে বাঁধা দেওয়ায় মুসলমানদের উপর হামলা করে। তার উগ্রবাদীদের লালন করে বাকিদের অসাম্প্রদায়িক হওয়ার জ্ঞান দেয়।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় এমন অনেকেই দাবি করে জানিয়ে বক্তারা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা বলতে পারবেন কোথায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের জোর করে কিছু করানো হয়? রাস্তাঘাটে তাদের হেনস্তা করা হয় বলতে পারবেন? যারা এসব বলে তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে অপদস্থ করতে চান। ৫ আগস্টের পরে এসব সুশীলতা বাংলাদেশে আর চলবে না।
ভারত যদি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে তাদের প্রতিবেশিরাই ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের শিকড় উপড়ে ফেলবে উল্লেখ করে সংগঠনটির মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদি বলেন, ভারত যদি তাদের মাইনরিটি নিরাপত্তা দিতে না পারে, কুকীচিন নারীদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে তাদের দেশের মানচিত্র আজীবন এমন থাকবে সেটা বলা যায় না। ভারতে সংখ্যালঘুদের যেমন জীবন চলছে পৃথিবীর আর কোথাও সংখ্যালঘুরা এমন মানবেতর জীবন কাটায় না। আমরা ভারতে মুসলিম, বুদ্ধ, খ্রিষ্টান, হরিজন দলিতদের নিরাপত্তা কামনা করছি।
ভারত মুসলমানদের স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মায়ানমারের সীমানা পরিবর্তন করে রাম রাজ্য কায়েম করতে চায় উল্লেখ করে হাদি আরো বলেন, ভারতে খ্রিস্টানদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয় কিন্তু ভারত বলে চট্টগ্রামে নাকি হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হয়। এসময় পত্রিকার সূত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে ২০১৫-১৮ সাল পর্যন্ত শুধু গরু খাওয়ার অপরাধে ৪৪ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে৷ মুসলিমদের তো শুকর হারাম তবুও মানুষ শুকর চাষ করে থাকে। কিন্তু সেখানে তো কাউকে হামলা করা হয়নি।
ভারতে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে এসময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ভারত আমেরিকা ও জাতিসংঘকে বুঝাতে চায় এদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়ে থাকে৷ আমরা যদি ভারতের বিরুদ্ধে ডকুমেন্টস দেখাতে যাই সেটা শেষ হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

