ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গণশুনানীতে হট্টগোল

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গণশুনানীতে হট্টগোল

ঢাকা উত্তর সিটি সিটি কর্পোরেশনের গণশুনানীতে চাঁদাবাজি নিয়ে চরম হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষি মার্কেটসহ মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে এই হট্টগোল বাধে।

রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশিষ্ট নাগরিক ও সম্মানিত নগরবাসীর সাথে এক গণশুনানী ও মতবিনিময় সভায় ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। সভার সময় জামায়াত নেতা মোস্তাক আহমদ মাহমুদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয় বলে দলটিরি পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ প্রধান অতিথি হিসেবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গণশুনানীতে নগরবাসীর নানা সমস্যা, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত গ্রহণ করা হচ্ছিল। মোস্তাক আহমদ মাহমুদ তার নিজের পরিচয় দিয়ে এলাকার জলাবদ্ধতা, রাস্তার বেহাল দশা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবনতি নিয়ে স্পষ্টভাবে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ করে গণশুনানীতে অংশ নেয়া মিজানুর রহমান ও আমির হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে এবং শারীরিকভাবে হামলা চালায়।

এই হামলার পর সভায় উপস্থিত নাগরিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ।

প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গণশুনানী একটি নাগরিক অধিকার এবং এখানে সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ নিজস্ব বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। এই ধরণের সহিংসতা আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

হামলার শিকার মোস্তাক আহমদ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শান্তিপূর্ণভাবে নাগরিক সমস্যা তুলে ধরছিলাম। অথচ পরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

এ সময় প্রশাসক বলেন, 'ফুটপাতে হকারদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা জানি হকারদের এই কার্যক্রমের পেছনে চাঁদাবাজদের চক্র রয়েছে। চাঁদাবাজ চক্রে জড়িতদের বলছি আপনারা এসব বন্ধ করে। হকারদের উচ্ছেদের জন্য চাঁদাবাজদের ধরা হবে।'

প্রশাসক আরও বলেন, 'অনেক জায়গায় লাইট নষ্ট হয়ে যাওয়ার তথ্য পাচ্ছি। ডিএনসিসির বিদ্যুৎ সার্কেলকে নির্দেশ দিয়েছি নষ্ট বাতিগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।'

রাস্তা ও ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে এক নাগরিকের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, 'আগামী ৩০ মে তারিখের মধ্যে ডিএনসিসি এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতের খোড়াখুড়ি মেরামত করা হবে। নতুন করে কোন খোঁড়াখুঁড়ির করতে দেওয়া হবে না।'

নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়না উল্লেখ করে এক নাগরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বলেন। জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান 'নির্দিষ্ট এলাকার জন্য ঝাড়ুদার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তালিকা প্রণয়ন করে সেটি ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।আপনাদের এলাকায় কাজ না করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এসময় তিনি জানিয়েছেন দ্রুতই ডিএনসিসির সবার ঢাকা এপ চালু হবে।

উল্লেখ্য, ডিএনসিসির আওতাধীন ১০টি অঞ্চলের নগরবাসীর সমস্যার কথা জানতে গণশুনানীর আয়োজন শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। গণশুনানিতে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। ইতোমধ্যে অঞ্চল ১,২,৩, ৪ ও ৫ এর সব ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সাথে গণশুনানী সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোত অনুষ্ঠিত হবে।

মোহাম্মদপুর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত গণশুনানীতে অঞ্চল-৫ এর আওতাধীন ২৬,২৭,২৮,২৯,৩০,৩১,৩২,৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, বাজার কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও নেতৃবৃন্দ, সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, যুবক ও ছাত্র প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন