পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটে একটি মার্কেটের ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, দুটি পক্ষই যুবদলের রাজনীতি করে। যুবদলের ইসহাক গ্রুপ এবং মিন্টু, নাহিদ, মইন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
চকবাজার থানার ওসি শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, সোমবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে নলগোলা এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আহত কয়েকজন মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি বলেন, দলীয় পরিচয় এর ব্যাপারে এখনো কিছু জানি না। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সন্ধ্যায় বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহতরা হলেন- রাব্বি (২০), আরমান (২৫), কারী মিজান (৪০), আলমগীর (৩০), আল আমিন (২৩) ও রুবেল সিকদার (২০)।
লালবাগ বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, চকবাজার ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি চকবাজারে মার্কেটে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অন্যটি বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় কিশোর-যুবক বয়সীদের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে।
চকবাজার এলাকার মার্কেট দখলের বিষয়ে স্থানীয় সূত্র জানায়, এক মাস আগে যুবদলের ইসহাক গ্রুপ বুড়িগঙ্গা বেড়িবাঁধ এলাকায় সাবেক এমপি হাজি সেলিমের এমটিসি ক্রোকারিজ মার্কেটটি দখল করে নেয়। এরপর থেকে মিন্টু, নাহিদ, হায়দার ও মইন গ্রুপ ওই মার্কেটটি তাদের দখলে নিতে চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার বিকেলে মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে দুপক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। এ সময়ে দুপক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বাবুবাজার এলাকার সংঘর্ষে আহতদের বিষয়ে মিটফোর্ড হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বাবুবাজার এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যকের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রে আঘাত রয়েছে।
ইফতারের পর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোর ও যুবক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ জড়ায়। এ সময় কয়েকজনকে গুলি ছুড়তেও দেখা যায়। তারা যুবদলের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, বাবুবাজার এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এক গ্রুপ চাঁদা তুলতে গেলে আরেক গ্রুপ বাধা দেয়। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা বলে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

