বিবিএ অ্যালামনাই কনভেনশন ২০২৫ ছিল শুধুমাত্র একটি উদযাপন নয়, এটি ছিল ডিআইআইটি পরিবারের অন্তর্নিহিত গর্ব, ভালোবাসা এবং ঐক্যের দৃঢ় পুনঃঘোষণা, যা ভবিষ্যতের যাত্রায় BBA বিভাগের জন্য এক দুর্দান্ত অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে।
ডিআইআইটি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত বিবিএ অ্যালামনাই কনভেনশন ২০২৫ ছিল প্রাক্তন ও বর্তমানের এক অনন্য মিলনমেলা। এদিন প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে উদযাপন করেছেন অর্জন, সম্পর্ক ও ডিআইআইটি’র অনবদ্য ঐতিহ্যকে। অনুষ্ঠানটি ছিল পুরোনো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের, স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করার এবং বিবিএ বিভাগের চিরন্তন আত্মার উদযাপন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. আমানউল্লাহ। তিনি তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে অ্যালামনাইদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং ডিআইআইটি’র বিবিএ প্রোগ্রামকে নেতৃত্ব গঠনে একটি মডেল হিসেবে তুলনা করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, ডিআইআইটি দৃঢ় ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপ বজায় রাখে, যার ফলে এখানকার ডিগ্রি কেবল একাডেমিকভাবে সমৃদ্ধ নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও অত্যন্ত মূল্যবান।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. ফকির রফিকুল আলম, ডিন (ভারপ্রাপ্ত), পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গেস্ট অব অনার হিসেবে যোগ দেন। তিনি অ্যালামনাইদের আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের দেশের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ড্যাফোডিল ব্র্যান্ডের শক্তি এবং ডিআইআইটির প্রিন্সিপালের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো ইতিবাচক ও শক্তিশালী ভাবমূর্তি তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআইআইটি’র গভর্নিং বডির সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক আল-আমিন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী। তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে ডিআইআইটি বিবিএ অ্যালামনাইদের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রফেসর আল-আমিন উল্লেখ করেন, ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ডিআইআইটির শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অর্জন ও কার্যক্রমের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ড. মো. সবুর খান, সম্মানিত চেয়ারম্যান, ড্যাফোডিল ফ্যামিলি। তিনি বলেন, অ্যালামনাই হলেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হৃদয়। তিনি বলেন, অ্যালামনাইরা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলবে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মনোভাব ও পরামর্শের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অ্যালামনাইদের আবেগঘন বক্তব্য, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা, শিক্ষকদের স্মরণ, ক্যাম্পাস জীবনের গল্প সবকিছু যেন আবার একবার জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। ডিআইআইটি ক্যাম্পাস মুখরিত ছিল প্রাণ, আনন্দ ও হৃদয়স্পর্শী আলাপনে, যেখানে বিভিন্ন ব্যাচের অ্যালামনাইরা পুনর্মিলিত হয়ে তাঁদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান ডিআইআইটির উন্নয়নে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় এক প্রাণবন্ত নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে, যেখানে নবায়িত হয় পেশাগত বন্ধন এবং উন্মোচিত হয় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
ডিআইআইটি বিবিএ অ্যালামনাই কনভেনশন ২০২৫ ছিল শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ছিল আত্মপরিচয়ের গর্ব, ভালোবাসা এবং ডিআইআইটি পরিবারের চিরন্তন বন্ধনের একটি উদযাপন, যা বিবিএ বিভাগের ভবিষ্যৎ পথচলায় অদম্য প্রেরণা ও সহমর্মিতার বার্তা বহন করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

