স্বার্থান্বেষীদের বাঁধায় ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না: ড. আদিল মুহাম্মদ খান

‘স্বার্থান্বেষীদের বাঁধায় ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না’

ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গেই বারংবার স্বার্থান্বেষী মহলের বাঁধার কারণে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি নগরপরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার ‘গোষ্ঠীস্বার্থে বারবার ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার পরিবর্তন : জনস্বার্থ ও বাসযোগ্যতার বিপন্নতা এবং নাগরিকের করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত দুটি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রণয়নের পরপরই রিভিউ কমিটি গড়ে ড্যাপ বাস্তবায়নের মূল শক্তিটাই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সরকার উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী মহলের কাছে সামগ্রিক জনস্বার্থ এবং শহরের বাসযোগ্যতাকে ছাড় দিয়েছে। অনুরূপভাবে বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা ২০০৪ এর সংশোধন করা হয় ২০১৫ সালে। যাতে আবাসন ব্যবসায়ীদের চাপে জনস্বার্থ উপেক্ষা করে নাগরিক সুবিধার মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড অনেক কমিয় ফেলা হয়েছে। ফলে পার্ক, খেলার মাঠ, বিদ্যালয় এসব নাগরিক সুবিধাদির পরিমাণ কমেছে।

এসময় বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ছিল- মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে ও পুনর্মূল্যায়নে শহরের বাসযাোগ্যতা, ধারণক্ষমতা, নাগরিক সুবিধাদির সুষম বণ্টন, এলাকাভিত্তিক সাম্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ, জলাশয়-জলাধার, কৃষিভূমি-জলাধার রক্ষা- এসবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় ভবনের মধ্যবর্তী কৌণিক দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেটব্যাকের যথাযথ মান নিশ্চিত করে ঘরের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করতে হবে। আবাসিক এলাকার ভবনসমূহের ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এলাকাভিত্তিক ভিন্নতাকে মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকার জন্য পৃথক জনঘনত্ব, এফএআর মান ও কাঠাপ্রতি ভবনের উচ্চতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে হবে।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে আরও ছিল, প্রস্তাবিত রাস্তার ওপর ফার দেওয়ার মতো আত্মঘাতী চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে, পরিবারের সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে, এলাকাভিত্তিক ফারকে অতিক্রম করে প্লট ফারকে বিবেচনায় নিয়ে ভবনের আকার-আয়তন-উচ্চতার অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও অগ্নি দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ অনুমোদন বন্ধ করতে হবে এবং ছয় তলার ওপরে ভবনকে বহুতল ভবন বিবেচনায় নিতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন এনে ভবনে অগ্নি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বায়ুমণ্ডল অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু সাদেক, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, জুরাইন এলাকার নাগরিক অধিকারকর্মী মিজানুর রহমান প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন