মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিএমডিসি অবরোধ

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিএমডিসি অবরোধ

এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা এগিয়ে আনার দাবিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কার্যালয় অবরোধ করেছেন অকৃতকার্য এবং অনিয়মিত মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। চলতি বছরের মে মাসে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা মার্চের মধ্যে এটি আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার সাড়ে ১১টা থেকে রাজধানীর বিজয়নগরে বিএমডিসির কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। অবরোধের ফলে বিএমডিসির ভবনে কেউ ঢুকতে যেমন পারছেন না, কেউ বের হতেও পারছেন না। এই প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনরতরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ফাইনাল পেশাগত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের নভেম্বর মাসে। ওই পরীক্ষায় প্রায় এক হাজারের মত পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হন। তাদের আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও সেটি করেনি।

আন্দোলনকারী আনন্দ নামের এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের পরের ব্যাচকে আমাদের আগে আনতে চাচ্ছে। আর আমাদের সময় পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে। দুই ব্যাচের পরীক্ষা একসঙ্গে নিতে চাচ্ছে যেখানে নিয়ম অনুযায়ী আমরা আলাদা একটা পরীক্ষা পাই। আলাদা পরীক্ষা আমার ন্যায্য দাবি।’

দুই ব্যাচের পরীক্ষা একসঙ্গে নিলে কী কী সমস্যা কি হতে পারে জানতে চাইলে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তো আলাদা একটা পরীক্ষা পাই। সেটা একসঙ্গে হবে কেন? আমাদের যদি এখন আরও দুইমাস পিছিয়ে দেয় তাহলে এমডি, এমএস, এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারব না। আমরা অলরেডি দেড় বছর পিছিয়ে গেছি, মে মাসে পরীক্ষা নিলে আরও পিছিয়ে যাব।’

তবে একসঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণ যৌক্তিক জানিয়ে বিএমডিসি রেজিস্ট্রার চিকিৎসক লিয়াকত আলী বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি এমন এক হাজারের মত শিক্ষার্থী আছে। মে মাসে পরীক্ষার যে সূচি হয়, সেখানেও অনুত্তীর্ণদের অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে। এটাই হলো নিয়ম, এর বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা চাচ্ছে একটা মধ্যবর্তী পরীক্ষা, কিন্তু এটা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত একটা কাজ। পরীক্ষা কিভাবে নেবে, রুটিন কি হবে সেটা ঠিক করে ডিন অফিস। শিক্ষার্থীরা দাবি করছে তাদের টাইমমত পরীক্ষা নিতে হবে নইলে তারা পিছিয়ে যাবে। একটা সহজ বিষয়কে বিএমডিসির ওপর চাপিয়ে জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।’

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক চিকিৎসক মো. মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে বৈঠক হয় বিএমডিসির। ওই সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বিএমডিসির কারিকুলাম অনুযায়ী বছরে দুইবার মে এবং নভেম্বর মাসে পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও অনিয়মিত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মার্চ মাসে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষা নিলে তা হবে বিএমডিসির কারিকুলামের পরিপন্থা। কারিকুলাম অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন