পৃথক পে-স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

পৃথক পে-স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বিচার বিভাগের সত্যিকার স্বাধীনতা নিশ্চিতে অধস্তন কর্মচারীদের জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন-ভাতা প্রদান এবং ব্লকপদ বিলোপ্তির ভিত্তিতে পদোন্নতিসহ স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি প্রণয়নের দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন। বিদ্যমান নিয়মে শুধু বিচারকদের জন্য ছয়টি গ্রেডে পৃথক পে-স্কেলসহ নিয়োগ বিধিমালা থাকলেও সহায়ক কর্মচারীদের জন্য নেই পৃথক পে-স্কেল,বিধিমালা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. রেজোয়ান খন্দকার এ বৈষম্য তুলে ধরে অবিলম্বে দীর্ঘদিনের অরাজগতা দূর করার আহবান জানান। এ বৈষম্য দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৫ মে হতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা এবং পরবর্তীতে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবার ঘোষনা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন,সহ-সভাপতি আবদুল কাদির ঢালী,সাধারণ সম্পাদক কাজী মো.সালাউদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক আহাম্মদ রিংকুসহ সারা দেশের বিচার বিভাগের কর্মচারী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো. রেজোয়ান খন্দকার বলেন, অনেক কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে একই পদে ৩৮-৪০ বছর চাকরি করেও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর শুধু বিচারকদের জন্য ছয়টি গ্রেড রেখে পৃথক পে-স্কেলসহ নিয়োগবিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সহায়ক কর্মচারীদের ওই পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিচারকদের সঙ্গে আদালতের সহায়ক কর্মচারীরা একই দপ্তরে কাজ করেন। তবে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-স্কেলের আলোকে বিচারকদের বেতন-ভাতাদি হলেও সহায়ক কর্মচারীরা জনপ্রশাসনের আলোকে বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন।

রেজোয়ান খন্দকার বলেন, সচিবালয়ে একজন অফিস সহায়ক চাকরিতে যোগদান করে উপসচিব পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে অফিস সহকারী পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পর্যন্ত হতে পারেন। পুলিশের কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ শতভাগ বৈষম্যের শিকার অধস্তন আদালতের সহায়ক কর্মচারীরা। এ সময় তিনি ঘোষনা করেন আমাদের দুই দফা ন্যায্য দাবি আগামী ৫ মে তারিখের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সারা দেশের অধস্তন বিচার বিভাগের কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আগামী ৫ মে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এর পরেও দাবি না মানলে আমরা লাগাতার কর্মবিরতে যাব।

তিনি আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি তার অভিভাষণে অ্যাসোসিয়েশনের দাবি উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন। ইতিমধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় সৃষ্টির কার্যক্রম চলমান। সেখানেও সহায়ক কর্মচারীদের বৈষম্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না থাকায় অধস্তন আদালতের প্রায় ২০ হাজার সহায়ক কর্মচারীকে আশাহত করেছে। যা বৈষম্যহীন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চরম অন্তরায়।

দুই দফা দাবি স্পষ্ট করে বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের এই সভাপতি জানান, প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা ও আইনসচিবের কাছে বৈষম্যহীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মচারীদের বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন-ভাতা দেবেন। বিদ্যমান জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের প্রথম-ষষ্ঠ গ্রেডের পরবর্তী সপ্তম-দ্বাদশতম গ্রেডভুক্ত করাসহ সব ব্লকপদ বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী পদ সৃজনপূর্বক যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ রেখে স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন