চাকরিতে পুনর্বহালসহ গ্রামীণফোনের কর্মীদের তিন দফা দাবি

চাকরিতে পুনর্বহালসহ গ্রামীণফোনের কর্মীদের তিন দফা দাবি

কর্মক্ষেত্রে অবৈধ চাকরিচ্যুতির আদেশ বাতিল করে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ চাকরিতে পুনর্বহাল এবং সেই সঙ্গে আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুত ও অধিকারবঞ্চিত কর্মীরা।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চাকরিচ্যুত ও অধিকারবঞ্চিত গ্রামীণফোন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের পরে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবু সাদাত মো. শোয়েব। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৈষম্যের শিকার বর্তমান এবং সাবেক শ্রমিকদের আইনগত পাওনা ‘অংশগ্রহণ তহবিল’ ও ‘কল্যাণ তহবিল’-এর বিলম্ব জরিমানার টাকা পরিশোধ না করে পরিকল্পিতভাবে আইন লঙ্ঘন করে টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে। শ্রমিকদের বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে গত ১৫ বছর মামলা ঝুলিয়ে রেখে এবং আইনগতভাবে পাওনা টাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন অজুহাতে গ্রামীণফোন লিঃ শ্রমিক ছাটাইয়ের এই মেগা প্রকল্প হাতে নেয় এবং ছাটাইয়ের প্রকল্প ক্রমাগতভাবে বাস্তবায়ন করছে। নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী ছাটাইয়ের প্রকল্প হাতে নিয়ে সেই টার্গেট বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণফোন অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন- ইচ্ছাকৃত ভাবে রে রাখা, ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া, যে কাউকে বদলি করা, অতিরিক্ত কাজের টার্গেট দেওয়া, জরুরি কাজের কথা বলে অফিসে তলব করা, কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গ করা; (জ) ট্রেনিং ও কাউন্সেলিং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা -যাতে করে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে বাধ্য হয়। পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত ২০ জুন-২০২১ তারিখে শুধুমাত্র একটি আদেশের মাধ্যমে ১৫৯ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্থায়ী কর্মীকে আকস্মিকভাবে ছাঁটাই করা হয়।

তিনি ৩ দফা দাবি করেন। সেগুলো হচ্ছে, ১. গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সকল প্রকার অবৈধ চাকুরিচ্যুতির আদেশ বাতিল করে শ্রমিকদের অবিলম্বে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিপূরণ সহ চাকুরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।

২. ২০০৯-২০১২ সালের ৫% লভ্যাংশের বিলম্ব বিতরণের প্যানাল্টি সহ সকল বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। ৩. শ্রমিক-কর্মচারীদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালানোর দায়ে জড়িত, গ্রামীণফোনের CEO, CMO সহ তাদের সকল অনুসারী ম্যানেজার এবং চাটুকার ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

গ্রামীণফোনের বিবৃতি: এদিকে, চাকরিচ্যূতদের প্রেস কনফারেন্সের প্রেক্ষিতে গ্রামীনফোনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়,“গ্রামীণফোনের কিছু সাবেক কর্মী চাকুরি সংক্রান্ত নানাবিধ দাবি-দাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাস যাবত জিপি হাউজের সামনে সমবেত হচ্ছেন। আমাদের জানা মতে, তাদের বেশিরভাগ বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যান এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া তারা যে দাবিগুলো তুলেছেন সেগুলো বর্তমানে মহামান্য আদালতে বিচারাধীন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি গ্রামীণফোন শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্মান করে। তবে উক্ত ব্যক্তিরা জিপি প্রাঙ্গণের প্রবেশ ও বহির্গমনের পথ অবৈধভাবে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ সহ বেশ কয়েকবার অবরূদ্ধ করে। ফলে গ্রামীণফোনের কর্মী, সরবরাহকারী, ও গ্রাহকদের অবাধ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাঁধাগ্রস্থ হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি আমরা আরো লক্ষ্য করছি যে, এই ব্যক্তিরা গ্রামীণফোন সম্পর্কে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন