শীর্ষ সন্ত্রাসী হেজাজ বিন আলম ওরফে এজাজ বিন আলম হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে হেজাজের গ্রেপ্তারসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য নেওয়া হয়। হেজাজের পরিবারের পক্ষ থেকেও থানা পুলিশ কিংবা ডিবি পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যুর বিষয়ে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান আমার দেশকে রোববার রাতে বলেন, গত ১১ মার্চ যৌথবাহিনী হেজাজ বিন আলম ওরফে এজাজ বিন আলম ওরফে ফাহিম বিন আলমকে অসুস্থ অবস্থায় থানায় হস্তান্তর করে। হেজাজ শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী। পরদিন আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। পরে আমরা জানতে পারি তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনি পালিয়ে যান। তখন ডিবি পুলিশের কাছে অনুরোধ করি হেজাজকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করতে। থানা পুলিশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশ পলাতক ওই ব্যক্তির খোঁজ জানতে পারে, তিনি জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরে ডিবি পুলিশ ওই হাসপাতাল থেকে এজাজ ওরফে হেজাজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ১৫ মার্চ শনিবার মারা যান তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী এজাজ বিন আলম ওরফে এজাজের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রোববার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়। নিহত হেজাজ বিন আলমের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার সদর থানা এলাকায়। তিনি ধানমন্ডি শেরেবাংলা রোডের একটি বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম শাহ আলম খান।
নিহত হেজাজের ভাই আবিদ বিন আলম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমার বড় ভাই হেজাজের মরদেহ গ্রহণ করেছি। ধানমন্ডিতে একটি জানাজা শেষে এজাজারে মরদেহ টাঙ্গাইলে নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কবরস্থ করা হয়।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রৌশন আহমেদের উপস্থিতিতে তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুর থানার এসআই শেখ কাদের আহমেদ উল্লেখ করেছেন, গত ১১ মার্চ যৌথবাহিনীর একটি টিম হেজাজকে গ্রেপ্তারপূর্বক অসুস্থ অবস্থায় মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করলে তাকে দুইবার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হেজাজকে পরদিন আদালতে পাঠানো হলে তিনি জামিন পেয়ে গা ঢাকা দেন। শনিবার ১৫ মার্চ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে ডিবি গ্রেপ্তার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের ৯০১ নম্বর ওয়ার্ডের মারা যান।
ডিবি সূত্র বলছে, এজাজকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়নি। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এজাজের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই এখানে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন কোনো ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।
জানা যায়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ১৫ আগস্ট শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম, পিচ্চি হেলাল ও ইমনের সঙ্গে জামিনে মুক্তি পান এজাজ। মুক্তির পর থেকেই তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। কিছুদিন আগে এলিফ্যান্ট রোডে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশে গুলি ও কোপানোর ঘটনার মূলহোতা ছিল এই এজাজ। তাছাড়া মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও কলাবাগান এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতেন তিনি। ১২ মার্চ জামিন পাওয়ার পর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী এজাজের জামিন নিয়ে গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর তার সন্ধানে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও পিচ্চি হেলাল বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্যাং এজাজের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছিল। জানা গেছে, এজাজের নেতৃত্বে ১২০ থেকে ১৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ ১২ থেকে ১৫টি মামলা রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

