এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ

এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ

নারী অভিবাসীদের যৌন নিপীড়ন ও এইডসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার মিরপুর দারুস সালামে বিওএমএসএ-এর কার্যালয়ে অভিবাসী নারীদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন হয়।

প্রশিক্ষণের আয়োজক ছিল নারী উন্নয়ন শক্তি, বাংলাদেশি অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট, এবং ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।

বিজ্ঞাপন

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল বক্তব্য প্রদান করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। এছাড়াও সেশন পরিচালনা করেন লিলি জাহান, শেখ রুমানা, সেলিনা খাতুন ও সাবিনা সুলতানা।

ব্যুরো অফ ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয় ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের বরাত দিয়ে প্রশিক্ষণে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ১ লাখ নারী অভিবাসী কর্মী বিভিন্ন দেশে গমন করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৪২% নারী কর্মী কর্মস্থলে যৌন হয়রানির শিকার হন এবং ১৮% নারী শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসী নারীদের মধ্যে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি গড়ে ২.৫ গুণ বেশি। এসব তথ্যের আলোকে নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য

১. অভিবাসী নারী ও প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে যৌন নিপীড়ন ও এইডস সংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

২. এলাকার ভেতরে এবং প্রবাসে নারী কর্মীদের সুরক্ষা বিষয়ে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য দক্ষ ভলান্টিয়ার তৈরি।

৩. ভবিষ্যতে এই ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।

৪. সরকারের কাছে অভিবাসী নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন।

প্রশিক্ষণের ফলাফল

প্রশিক্ষণার্থী নারী ও তরুণী ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাব্য প্রবাসী নারীদেরকে বিদেশ গমনের পূর্বে সচেতন করবে বলে অঙ্গীকার করেন।

তারা যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক প্রতিরোধ কৌশল, অভিযোগ প্রক্রিয়া এবং এইডস প্রতিরোধ সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করেন।

সরকারের প্রতি দাবি

নারী অভিবাসীদের সুরক্ষা ও এইডস প্রতিরোধে আলাদা বাজেট বরাদ্দ। অভিবাসী নারীদের সুরক্ষা, যৌন নির্যাতন ও এইচআইভি এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা, প্রবাস গমনের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি, নির্যাতিত নারীদের ফিরিয়ে আনা অপু পরিবারে পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, চুক্তি মোতাবেক অধিকার আদায়ের অ্যাডভোকেসি করা ও আইনি সহায়তা করা প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন এর জন্য নারী নেতৃত্তাধীন এনজিওদেরকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিষয়গুলো নিয়ে দাবি তোলা হয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নারী অভিবাসীদের জন্য নিরাপত্তা নীতিমালা বাস্তবায়ন। সুবিচার ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করার জন্য ভুক্তভোগী অভিবাসী নারীদের জন্য সেল গঠন।

এ দাবিসমূহ পরবর্তীতে সরকারকে লিখিত আকারে উপস্থাপন করা হবে বলে আয়োজক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন