পোশাক নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

পোশাক নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে পোশাক নিয়ে কটুক্তি ও হেনস্তা করায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরে শাহবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে হেনস্তার শিকার হন ওই নারী শিক্ষার্থী। এরপরে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে ও পরবর্তী সময়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষার্থী।

অভিযোগ আমলে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার (কর্মচারী) মোস্তফা আসিফ অর্ণবকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ছেলেটি এক ছাত্রীকে হেনস্তা করেছিল। পরে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করে এবং থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী অর্ণবের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন 'তৌহিদী জনতা' ব্যানারে একদল মানুষ। এসময় তারা দ্রুত অর্ণবকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এর আগে পোশাক নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ এনে নিজস্ব ফেসবুকে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। হেনস্তার শিকার ওই ছাত্রীর ফেইসবুক পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযুক্তের ছবি দিয়ে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী লেখেন, ‘এই লোকটা আজকে আমাকে শাহবাগ থেকে আসার পথে হ্যারাস করেছে। সে আমাকে হুট করে রাস্তায় দাঁড় করায় দিয়ে বলতেসে আমার ড্রেস ঠিক নাই, আমি পর্দা করি নাই ইত্যাদি ইত্যাদি এবং তার আচরণ খুবই অ্যাগ্রেসিভ ছিল। পরবর্তীতে তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করি আপনি কোন হলে থাকেন, কোন ডিপার্টমেন্টে পড়েন। সে বলে সে এই ক্যাম্পাসের কেউ না।’

তিনি আরো লেখেন, 'তিনি সালোয়ার, কামিজ ও ওড়না পরে ছিলেন। তার পরও তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলে। এরপর তিনি প্রক্টরকে কল দিতে চাইলে ওই ব্যক্তি দৌড়ে চলে যান।'

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ছেলেটি পোশাক নিয়ে হেনস্তা করলে মেয়েটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন এবং পরে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেন। পরে তাকে (অর্ণব) প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হলে হেনস্তা করার বিষয়টি সেও স্বীকার করে। পরে তাকে শাহবাগ থানায় পাঠানো হয় এবং গ্রন্থাগারকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন