নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপন

তহবিল সংগ্রহে চারুকলায় কর্মশালা শুরু

তহবিল সংগ্রহে চারুকলায় কর্মশালা শুরু

বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম তথা সরা, জলরং, মুখোশ ও অন্যান্য উপকরণ বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে এক 'কর্মশালা' চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারি প্রাঙ্গণে কর্মশালা কার্যক্রমটি উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী ও প্রাচ্যকলা বিভগের 'অনরারি' অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, সকলের মনে সন্দেহের দানা বেঁধেছিলো- এবার আগের মতো নববর্ষ উদযাপন হবে কিনা। সেই শঙ্কা কাটিয়ে এবার বৃহত্তর পরিসরে আমরা নববর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি। অনেক বছর ধরেই চারুকলায় নববর্ষ উদযাপন হয়ে আসছে। যারা উদযাপন করছেন তারা চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এছাড়াও বাইরের শিল্পীরা এতে অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত শিল্পকর্ম নিয়ে অনেকে ধর্মীয় বিষয়ে টেনে বিরূপ সমালোচনা করেন। যারা এমনটা করে তারা বিষয়টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট কিছু জানেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা সারা বছর ধরে যেভাবে কাজকর্ম করে সেগুলো মূলত শোভাযাত্রায় প্রদর্শন করা হয়। এগুলো নিয়ে বিরূপ সমালোচনার করার কোনো সুযোগ নাই। শোভাযাত্রায় ময়ূর, পাখি, টেপা পুতুল এসবই তো থাকে। এগুলো তো কোনো ধর্মের জীবজন্তু না৷

এসময় পূর্বের যেকোন সময়ে মতো এবারও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নববর্ষ উদযাপন হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নববর্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কেন্দ্রীয় কমিটি, প্রতিপাদ্য ও অন্যান্য জরুরি বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো চূড়ান্ত হয়ে যাবে। যেহেতু পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বড় একটি ছুটি সামনে এবং শিক্ষার্থীদের অনেকেই ঢাকা ছেড়েছে এবং ছাড়ছে। আবার ছুটি শেষে নববর্ষের অনুষ্ঠান প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাওয়া যাবে না। তাই দ্রুততম সময়ে এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়েছে।

আয়োজকেরা আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে শোভাযাত্রা সহ সকল আয়োজন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সকলের ঐকান্তিক চেষ্টায় আমরা যেমন ফ্যাসিবাদী আন্দোলনকে সফল করে তুলেছি, ঠিক একইভাবে জাতির যে কোন প্রয়োজনে আমরা ঐক্যতান তুলে এগিয়ে যেতে চাই। প্রাক্তনী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সংবাদকর্মী সহ সমাজের সকল অংশের সুধীজনের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে নববর্ষের সকল আয়োজনকে সফল করে তুলতে চাই। হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের নিরলস পরিশ্রমের ভিতর দিয়ে অতীতের যেকোনো আয়োজন থেকে আরো অধিক সফল করে তুলতে চাই বৈশাখ শোভাযাত্রা।

এবিষয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ কর্মশালার আহ্বায়ক ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, আমাদের নববর্ষের এবারের প্রতিপাদ্য ও শোভাযাত্রা কীভাবে উদযাপন করবো এবিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আগামী ২৩ মার্চ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তবে আজকে ফান্ড তৈরির জন্য একটি কর্মশালা শুরু হয়েছে। এটার কাজ চলমান থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন