জুলাই হত্যা মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন শিক্ষার্থীরা। তিনি জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের সাবেক নেতা সুজন মোল্লার দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সূত্রাপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমকে পুলিশের হাতে তুলে দেন শিক্ষার্থীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
একই থানার ডিউটি অফিসার এসআই ফেরদৌস জানান, জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অধ্যাপক আনোয়ারাকে আদালতে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, অধ্যাপক আনোয়ারা আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বরখাস্ত, হেনস্তাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন।
জবি শিক্ষার্থী আবু বক্কর বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা স্বৈরাচারের দোসর হয়ে উঠছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। আওয়ামী আমলে ছাত্রদল-শিবির মতাদর্শের শিক্ষার্থীদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন হয়েছে, সেখানে এই শিক্ষিকা ছিলেন মদতদাতা। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।
মামলার বাদী ও জবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা বলেন, অধ্যাপক আনোয়ারার মতো দলকানা শিক্ষকদের জন্যই স্বৈরাচারী আমলে শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে। তিনি বলতেন— ছাত্রদল-শিবির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই তারা রাজাকার; গুলি করে মেরে ফেলা উচিত তাদের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আনোয়ারা পিএসসির সদস্য থাকাবস্থায় ছাত্রলীগ ছাড়া কাউকে বিসিএসেএ উত্তীর্ণ হতে দিতেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশ এবং প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের ওপর দমন-পীড়নে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
আটকের পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আনোয়ারা বলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আজ (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কাজে এলে কয়েক শিক্ষার্থী আমাকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। আমাকে মামলা দিয়ে মেরে ফেলুক, তবুও বলব— আমি সারা জীবন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো কাজ করেছি এবং সব সময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

