রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় নারী কিশোরীসহ পাঁচ জন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিভিন্ন কারণে তারা আত্মহত্যা করেছেন।
আত্মহত্যাকারীরা হলেন- চকবাজারের রাকিব (১৯), কামরাঙ্গীরচরের সারিকা হোসেন লাবিবা (১৩), ভাটারার ইউনুস আলী (৩৩) চকবাজারের সাজ্জাদ আলী নয়ন (২৪) ও হাজারীবাগের রুপা (২৬)।
মঙ্গলবার দুপুরে তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. ইমরান হোসেন জানান, আমরা খবর পেয়ে খালপাড় অটোস্ট্যান একটি বাসার দোতলা থেকে গলায় ওড়না ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান,আমরা তার বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, লাবিবা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো তার মাদ্রাসায় পড়াশোনা ভালো লাগতো না ।পরে তার বাবার কাছে ওই ছাত্রী বললে আমি মাদ্রাসার পড়বো না। তার পর বাবার রাগানিত হয়ে তাকে শাসন করলে বাবার উপর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে আমরা জানতে পারে। তবুও ময়নাতদন্তে প্রতিবেদনে রিপোর্ট পেলে মৃত সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের বাবা মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, আমার মেয়ে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতো। মেয়ের মাদ্রাসায় পড়ালেখা ভালো লাগতো স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য আমার কাছে বললে আমি তাকে শাসন করলে আমার উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তিনি আরও জানান,আমাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার কুকুটিয়া গ্রামে। বর্তমানে খালপাড় অটোরিকশা স্ট্যান্ড ৫৬ নং ওয়ার্ডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকি। আমার দুই মেয়ে লাবিবা বড়।
অপরদিকে,চকবাজারের রাকিব নামে এক ওয়ার্কশপ শ্রমিকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে । চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মো .জিল্লুর রহমান জানান,আমরা খবর পেয়ে চকবাজারের ওয়াটার রোড ষষ্ঠ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দ্বারা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাবো থানা এলাকার মো. বাদল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে ওই এলাকার ১৭/এ ষষ্ঠ তলায় ভাড়া থাকতো।
অপরদিকে, চকবাজারের সাজ্জাদ আলী নয়ন নামের এক ফটোগ্রাফার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)মোহাম্মদ কাউসার জানান, আমরা খবর পেয়ে চকবাজারের হোসনি দালান ১৭ নম্বর মিয়া গলি বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমরা জানতে পারি পারিবারিক বিষয় নিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের নিজ বাসা বংশালের ১৭৮/৩ নম্বর রহমত আলী ছেলে।এদিকে,ভাটারায় ইউনুস আলী নামেএক রিক্সাচালক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, আমরা খবর পেয়ে দাগ নং ২৬০৯ হাজী নাসির উদ্দিন রোড নূরেরচালা বোটঘাট এলাকার একটি বাসা থেকে ইউনুস আলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। তিনি গলায় রশি পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।তিনি আরও জানান,আমরা জানতে পেরেছি হতাশাগ্রস্থ হয়ে তার নিজরুমে সিলিংফ্যানে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানা গুয়ারি গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে।
অপরদিকে হাজারীবাগে রুপা আক্তার নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রুপা নামের এক গৃহবধূ নিজের ঘরে ভিতরে দরজা লক করে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকে। পরে তার শাশুড়ি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রুপাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান,প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবুও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।নিহতে গ্রামে বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা চোদ্দো সোয়া গ্রামের মো. মুজাফফর ঢালীর মেয়ে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

