প্রিন্সিপালকে লাঞ্ছিত করায় শ্যামলী সেন্ট্রাল মেডিকেলে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

প্রিন্সিপালকে লাঞ্ছিত করায় শ্যামলী সেন্ট্রাল মেডিকেলে চিকিৎসা সেবা বন্ধ

প্রিন্সিপালকে জোর করে অপসারণের অপচেষ্টা এবং লাঞ্ছনার প্রতিবাদসহ ১২ দফা দাবিতে বুধবার সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করেছেন শ্যামলী রিং রোডের সেন্ট্রাল ইনটারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। শনিবারের মধ্যে দাবি আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর অন্দোলনে যাওয়ার কথা জানান আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রতিনিধি ডা. তাজিন রহমান। তাদের সাথে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

শিক্ষার্থী এবং সকল পর্যায়ের চিকিৎসকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার নতুন দায়িত্বে আসা দুই জন পরিচালক, একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. এবিএম আব্দুল মতিনকে জোরপূর্বক অপসারণ করার অপচেষ্টা চালায়। শুধু তা-ই নয়, প্রিন্সিপালকে শারিকিভাবে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনা জানাজানি হবার পর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসকরা। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বহিস্কার এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে তাই চিকিৎসা সেবা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, এক সপ্তাহ আগে একজন এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরকে ছাঁটাই করে নতুন কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার সকাল থেকে ইন্টার্ন ডাক্তার, মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু করে হাসপাতালের সকল ডাক্তার সকল সেবা বন্ধ রাখেন। হাসপাতালের প্রবেশের পথে কোন রোগী ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এতে করে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিড়ম্বনায় পড়েন সেবা নিতে আসা অনেকে। সেবা নিতে না পেরে অনেকে ফিরে যান। কেউবা অন্য হাসপাতালে যান। সাংবাদিকদের হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশে বাঁধা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করলেও এক পর্যায়ে হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের ৮ম তলায় নিয়ে যান আন্দোলনকারীরা।

সেখানে অন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকের পর সেখানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল হাই চৌধুরী, প্রফেসর ডা. এস এম ইদ্রিস আলী, ডা. এসএম আমজাদ হোসেন, ডা. নাজনীন নাহার, ইন্টার্ণ চিকিৎসক ডা. তাজিন রহমান, শিক্ষার্থী মুয়াজ রহমান। ডাক্তার এবং শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোসহ ১২ দফা দাবির স্বপক্ষে বক্তব্য দেন ডাক্তাররা। জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজনকে ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দাবির বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে সমাধান করা হবে। প্রিন্সিপাল আব্দুল মতিন যথারীতি দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর দুপুর ২ টার পর হাসপাতালের বর্হিবিভাগসহ চিকিৎসা কার্যক্রম আবারো শুরু হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন