মিরপুর পল্লবীর ঝিলপাড় এলাকায় ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির জমিতে রোববার দুই দফায় হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। এ নিয়ে হামলাকারীরা গত ১৩ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত অন্তত চার দফায় হামলা চালিয়ে উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও গাড়ি ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রথম দফায় ২০/২৫ জন হামলা চালালে নির্মাণ শ্রমিকরা ২ জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এর জের ধরে সন্ধ্যায় এক থেকে দেড় শ সন্ত্রাসী প্রকল্প এলাকায় এসে হামলা চালায়। তারা প্রকল্পের সাইট অফিসে সংরক্ষিত নির্মাণ সামগ্রী, যন্ত্রপাতি ও গাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাইয়ুম আমার দেশকে বলেন, হামলা জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথম একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তারা পিস্তল, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভূমির উন্নয়ন কাজে কর্মরত শ্রমিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা অকথ্য ভাষায় নির্মাণ শ্রমিকদের গালিগালাজ করে এবং এই মর্মে হুমকি দেয় যে আমাদের সাথে আলোচনা না করে কোন উন্নয়ন কাজ করলে জানে মেরে ফেলব।
এ ব্যাপারে জমির উন্নয়ন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি টি মল্লিক প্রপার্টিস এন্ড এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১৪ মার্চ দুর্বৃত্তরা পুনরায় শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। একই ধারাবাহিকতায় আজ ১৬ মার্চ দুই দফায় হামলা চালানো হলো।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ পল্লবীর ঝিলপাড়স্থ এই ৭ একর জায়গা সিনিয়র সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দ দেয়। প্রায় ৩শ সদস্যের এই সমিতি তখন বাজারমূল্যে দাম পরিশোধ করলে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সমিতিকে জায়গাটি বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন স্থানীয় এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা রাতের অন্ধকারে জমিটি দখল করে নেয়। তিনি তার মাস্তান বাহিনী দিয়ে সেখানে গরুর ফার্ম, রুটির কারখানা এবং সেমিপাকা, আধাপাকা ঘর ও টং এর ঘর তুলে ভাড়া আদায় করে ভোগ দখল করে। গত জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হলে হাসিনাসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো ইলিয়াস মোল্লাও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। গত ২১ জানুয়ারি প্রশাসনের সহায়তায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ পুনরায় জায়গাটি থেকে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সমিতিকে বুঝিয়ে দেন। তারপর থেকে জমির উন্নয়ন কাজ চলছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

