বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার সাথে তীব্র যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার সাথে তীব্র যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশে রোদ-মেঘের খেলা চলছিল। দুপুর গড়ালে দু-এক জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়লেও গরমের তীব্রতা বাড়ে। আড়াইটা থেকে কালো মেঘে ছেয়ে যায় ঢাকার আকাশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই যেন সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসে রাজধানীজুড়ে। বিকেল গড়াতেই ঝুম বৃষ্টি নামে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরছিল। এভাবে ঢাকার সব এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার সাথে যানজটে মানুষের ভোগান্তির চরমে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে সিলেটে সবচেয়ে বেশি ১৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে, এটা বিচ্ছিন্নভাবে এবং থেমে থেমে। এতে তাপমাত্রা অনেকটা কমেছে। এখন যেহেতু কালবৈশাখীর মৌসুম, তাই বুধবারও কম বেশি বৃষ্টিপাত থাকতে পারে। তবে বুধবার তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সকালে আবহাওয়া অফিসের দেয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা বিভাগের কিছু জায়গায় দমকা হওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিকেলের বৃষ্টি গরমের অনুভূতি কমিয়ে শীতলতার পরশ নিয়ে এলেও বিভিন্ন কাজে বাইরে অবস্থান করা মানুষের জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। অনেকে অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন।

বিকেল সোয়া ৫টা, বৃষ্টির সময় কারওয়ান বাজারের মেট্রোরেলের নীচে আকাশ নামে একজন বলেন, 'বৃষ্টির কারণে আটকে গেছি। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে যানজটে থমকে গেছে সবকিছু। ফলে বাসায় ফেরাই কঠিন।'

বিকাল ৪টা, আকলিমা আক্তার (৩৫) নামের এক নারী বরিশালের ভোলা থেকে এসে গুলিস্তানে নামেন। মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। হাতে দুই ব্যাগ ও সঙ্গে দুই সন্তানকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই মিরপুরের বাস খুঁজছিলেন। বৃষ্টিতে বাস কম, যাত্রী বেশি হওয়ার কারণে একটি বাস আসার পর শত শত যাত্রী হুড়াহুড়ি শুরু করেন। এভাবেই তার ঘন্টাখানেক সময় কেটে যাওয়ার পর অবশেষে বিআরটিসির দ্বিতল বাস ভিড়লে তিনি গন্তব্যে রওয়ানা হন। ওই নারী বলেন, 'দুই সন্তানসহ ঘন্টাখানেক সময় ধরে বৃষ্টি ভিজেও বাস পাচ্ছিলাম না। সন্তানদের নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছি, তাই কী হবে আজ?'

কারওয়ান বাজারের ট্রেডসেন্টারের নীচে বৃষ্টিতে আটকা পড়া আমজাদ নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, 'সকালে বাসা থেকে অফিসে আসার সময় রোদ ছিল, বেশ গরমও লাগছিল, যে কারণে ছাতা নিয়ে বের হইনি। এখন বাসায় ফিরতে পারছি না। রাস্তায় যানজটে সবকিছু থমকে আছে, তাই বাসায় ফিরতে পারছি না। অনেকক্ষণ হয়ে গেল এখানে দাঁড়িয়ে আছি।'

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবারও রাজধানীতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে আকাশ অন্ধকার করে মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে প্রায় ঢাকাজুড়ে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে যানজটে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়েছে। সকাল থেকে রাজধানীর আকাশ পরিষ্কার থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ কমে আসতে শুরু করে। দুপুর নাগাদ আকাশ কালো হয়ে আসে। এরপর বেলা আড়াইটা নাগাদ রাজধানীর গুলিস্তান, সচিবালয়, মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, ফকিরাপুল, টিকাটুলি, গোপীবাগ, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওরাপাড়া, উত্তরা, বাড্ডা, গুলশানসহ আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। তবে বৃষ্টি ছিল হালকা ধরনের। তবে এভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও বিকাল ৪টার পর থেকে মুষলধারে ভারী বৃষ্টি হতে থাকে। সন্ধ্যার নাগাদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর ও পুনরান ঢাকা এলাকায় বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় পানি জমলে চলাচলকারী মানুষের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিকেলে ঢাকার আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা পড়লে অন্ধকার নেমে আসে। রাস্তার গাড়িগুলোর সব হেডলাইট জ্বালিয়ে চালাতে বাধ্য হয়। এদিকে সাম্য হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগ ব্লক করেছে ছাত্রদল। অন্যদিকে কাকরাইলের দিক থেকে মিছিল নিয়ে এসে কাকরাইল মসজিদের সামনে ব্লক করেছে বেতনের দাবিতে কয়দিন ধরে আন্দোলন করতে থাকা টিএনজেড-এর গার্মেন্টস কর্মীরা। এদিকে সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটির এই সময়ে একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে যানজটের কবলে পড়ে নাস্তানাবুদ অবস্থা রাজধানীবাসীর।

বৃষ্টির সময় অফিস থেকে বের হলে যানবাহনের সংকট দেখা দেয়। এরপর ভাড়ার মাত্রাও বাড়িয়ে দেয় রিকশাওয়ালা, সিএনজিওয়ালারা। ভোগান্তি তখন চরম আকার নেয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবেই সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন