তিন হাজার টাকার জেরে ভাগিনার হাতে খুন দুই খালা

তিন হাজার টাকার জেরে ভাগিনার হাতে খুন দুই খালা

চৌদ্দ বছর বয়সী স্কুল ছাত্র গোলাম রব্বানী খান ওরফে তাজ। গত ৯ মে শেওড়াপাড়ায় আপন খালার বাসায় যান সাইকেল কেনার তিন হাজার টাকার জন্য। টাকা না পেয়ে চুরি করে ধরা পড়েন। ধরা পড়ার জেরে তার মাকে বলে দেওয়ার কথা বললে লেবু কাটার ছুরি দিয়ে প্রথমে একজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। চিৎকার শুনে আরেক বোন (তাজের খালা) এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে। এরপর রান্না ঘরের শিল-নড়া এনে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে আপন দুই খালার মৃত্যু নিশ্চিত করে তাজ।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় দুই বোনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও হত্যার আলামত জব্দ করা উপলক্ষে সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) নাসিরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ডিবির মিরপুর ডিভিশনের ডিসি মিজানুর রহমান, এডিসি (মিডিয়া) নাসরিন সুলতানা। গত শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার ভাড়া বাসায় খুন হন মরিয়ম বেগম ও তার বোন সুফিয়া বেগম। ঘটনায় মরিয়ম বেগমের মেয়ে বাদি হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাশ বলেন, নিহতদের আপন ভাগিনা গোলাম রব্বানী খান ওরফে তাজ (১৪) গত ৯ মে বেলা অনুমান ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শেওড়াপাড়ায় তার বড় খালা মরিয়ম বেগমের বাসায় যায়। তার বড় খালা (মরিয়ম বেগম) তাকে আপ্যায়ন করার কাজে ব্যস্ত থাকে এবং সেজো খালা (সুফিয়া বেগম) প্লেট বাটি ধোয়া মোছা করে বারান্দার দিকে যায়।

এ সুযোগে সে বড় খালার রুমে টিভির পাশে রাখা মানিব্যাগ থেকে পুরাতন সাইকেল কেনার জন্য তিন হাজার টাকা চুরি করে। চুরির ঘটনা ধরা পড়লে বড় খালা মরিয়ম তাকে বকাবকি করেন এবং তার মাকে জানাবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়। তার মাকে ফোন করার জন্য মোবাইল ফোন খুঁজতে থাকে। সে মুহূর্তে তাজ ডাইনিং টেবিলে থাকা লেবু কাটার ছুরি দিয়ে প্রথমে বড় খালার পেটে আঘাত করে, আঘাত প্রাপ্ত হলে মরিয়ম বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মারতে উদ্যত হলে সে পুনরায় আঘাত করে। তার বড় খালার চিৎকার শুনে সেজো খালা (সুফিয়া বেগম) পাশের রুম হতে এসে তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকেও একই চাকু দিয়ে পেটে একবার আঘাত করলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। এরপর অভিযুক্ত তাজ রান্নাঘর থেকে শিল-নড়া এনে তার বড় খালা ও সেজো খালার মাথায় কয়েকবার আঘাত করে।

তারপর সে টয়লেটে গিয়ে তার হাতে ও মুখে লেগে থাকা রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করে। এরপর পাশের রুমে গিয়ে তার রক্তমাখা টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পাল্টে খালাতো বোন মিষ্টির ব্যবহৃত একটি জিন্স প্যান্ট ও তার ব্যাগে থাকা আরেকটি রঙিন টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে নেয়। পরবর্তীতে সে বাইরে থেকে দরজা লক করে চাবি নিয়ে একটি সিএনজি করে শনির আখড়ার উদ্দেশে রওয়ানা করে।

ডিবি-মিরপুর বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, মামলা রুজুর পর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিবিড় তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার ঘটনায় জড়িত মো. গোলাম রব্বানী খান ওরফে তাজ (১৪) এর অবস্থান শনাক্ত করে রোববার ভোরে ঝালকাঠি জেলার সদর এলাকায় তার নানা বাড়িতে অভিযান চায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রক্তমাখা কাপড়, জুতা এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে রক্ত মাখা নীল রঙের টি-শার্ট, রক্ত মাখা দুটি জিন্স প্যান্ট (এর মধ্যে একটি তার ও একটি তার খালাতো বোন মিষ্টির) ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন