রাজধানীর বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন

আমার দেশ অনলাইন

রাজধানীর বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট অব্যাহত রয়েছে । এতে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঘর-গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পাম্পেই ‘গ্যাস নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। কোথাও কোথাও গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চালকরা। আবার দু-একটি পাম্পে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস মিলছে না। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি গ্যাসচালিত যানবাহনগুলো নিয়েও চরম দুর্ভোগের শিকার মালিক-চালকেরা। খোদ রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও নিম্নচাপের কারণে খুব সামান্যই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহে চাপ কমেছে। কোথাও কোথাও সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে।

গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ কম। তার ওপর মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।

এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পগ্রাহকদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে তারা গাড়ি চালাতে ও যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পাওয়ায় দৈনিক জমা পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপকরা জানান, কয়েকদিন ধরে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছেন না তারা।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এ চাহিদা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। তবে এ বিপুল চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি ঘাটতি থাকছে। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৭৫ কোটি ঘনফুট আর আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ কোটি ঘনফুট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এতে গ্যাসের সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন