পান্থকুঞ্জে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত কীভাবে গৃহীত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ সমীক্ষা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে নগরের উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ড্যাপ সংশোধনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় এবং গণমাধ্যমের একটি অংশও বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রভাবের কারণে জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়। প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন এবং র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় গণআন্দোলন অব্যাহত রাথকে হবে।
শনিবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক. ফাইট ফর দ্য আরবান কমন্স ইন ঢাকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। আরবান স্টাডিজ ফাউন্ডেশন (ইউএসএফ) অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর আওতায় পরিচালিত ‘দ্য ফাইভ সিটি মাস্টারক্লাস সিরিজ: অর্ডিনারি ইকোলজিস অব রিপেয়ার’-এর অংশ হিসেবে Interdisciplinary Center for the Study of Global Change, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বুয়েট, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), দুনিয়াদারি আর্কাইভ যৌথভাবে এ গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানারর্সের (বিআইপি) সদস্য ও সাবেক সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, পান্থকুঞ্জে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত কীভাবে গৃহীত হয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ সমীক্ষা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়ন এবং র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতি এবং বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য বিষয়টিকে গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সামনে নিয়ে আসা। তিনি ঘটনাপ্রবাহ, তথ্য-উপাত্ত ও প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণের জন্য একটি যৌথ প্রমাণভিত্তিক তথ্যসংকলন (Evidence Book) প্রণয়নের প্রস্তাব দেন এবং গবেষণা, জ্ঞান সৃজন, অ্যাডভোকেসি ও বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বুয়েটের অধ্যাপক ড.আব্দুল হাসীব চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে নগরের উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জনস্বার্থ-ভিত্তিক আইন ও নীতিমালার সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আমিরুল রাজীব তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, ঢাকার বিভিন্ন বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজউক ও রিহ্যাবের ভূমিকা এবং সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, আবাসন খাতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে নাগরিক অধিকার ও পরিবেশগত বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ড্যাপ সংশোধনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় এবং গণমাধ্যমের একটি অংশও বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রভাবের কারণে জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়। তিনি দাবি করেন, পান্থকুঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় দুই হাজার গাছ অপসারণ করা হয়েছে, যার ফলে জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিআইপি’র উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, আরবান কমন্স” সংরক্ষণ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি পরিকল্পনার অব্যবস্থাপনা দূর করে নগরের পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান ব্যবস্থাপনায় কার্যকর জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, আদালত পরিবেশ সংরক্ষণের পক্ষে অবস্থান নিলেও আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তিনি পরিবেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আবদুল্লাহ এ ধরনের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি পরিবেশ ও নগর উন্নয়ন বিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
বিআইপ ‘র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসানের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন বিআইপি’র সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহারিয়ার আমিন, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাঈম উল হাসান, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য মোহাইমিনুল বাশার রাজ, বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন ও আলাই কেন্দ্রের সদস্য আমিনা আনসারী, কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা সাদমান সাকিব, শিক্ষার্থী সানজানা মারিয়া কবির, পরিকল্পনাবিদ নিয়াজ রহমান, লেখক ও চিন্তাবিদ ফিরোজ আহমেদ, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সৈয়দা রত্না, বেঙ্গল স্ট্রিমের স্থপতি ও কিউরেটর নিকলাউস গ্র্যাবার, পান্থকুঞ্জ প্রভাতী সংঘের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুদ্দিন তুহিন প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

