মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ও ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৩ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। দুদক জানায়, ১৩টি ওভারসিজ কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালকসহ অন্য আসামিরা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে সিন্ডিকেট করে বায়রার রেজিস্ট্রেশনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন-হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সাবেক সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের প্রতিষ্ঠানও। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০ (বি)/১৬১/১৬২/১৬৩/১৬৪/১৬৫(ক)/৪২০/৪০৯ ধারা ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানায, আসামিরা বিভিন্নভাবে সরকারি দলের বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার ৫ গুণ টাকা বেশি নিয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তির আওতায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় চাকরি নির্দিষ্ট প্রস্তাবে বিপরীত শ্রমিক প্রেরণের জন্য নির্ধারিত বাছাই ও অর্থসংশ্লিষ্ট শর্ত এড়িয়ে জনশক্তি, শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির ভিত্তিতে পরস্পর যোজসাজশে লাভবান হওয়ার হীন উদ্দেশ্যে রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতি অনুগ্রহ দেখিয়ে ও রিক্রুটিং শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতিসাধন করে চুক্তির বাইরে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে অস্থায়ী দায়িত্ব সম্পাদনকালে সরকারদলীয় প্রভাব খাটিয়ে আসামিরা যোগসাজশ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেন।
দুদক আরও জানায়, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নিম্নরূপে চুক্তিবদ্ধ আইনসংগত পারিশ্রমিক ব্যতীত অবৈধ পারিতোষিক সুবিধা ও অবৈধ অর্থ গ্রহণ এবং চুক্তিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করা ও চুক্তি মোতাবেক করণীয় কাজ থেকে বিরত থাকার পুরস্কার হিসেবে বায়রার প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে সরকার দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার সুবিধা ব্যবহার করে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণ করেন। তারা অবৈধভাবে গৃহীত অর্থ অবৈধভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর করে পাচার করেন; যা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে ৫ গুণ অতিরিক্ত টাকা গ্রহণপূর্বক মালয়েশিয়ায় পাঠানো কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রতি কর্মীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা গ্রহণপূর্বক ১ হাজার ১৫৯ কোটি ৮২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
এর আগে গত মার্চে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার ও ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার পরিবার, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠানসহ ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

