পারিবারিক আদালতে ৭৪ সহস্রাধিক মামলা বিচারাধীন

পারিবারিক আদালতে ৭৪ সহস্রাধিক মামলা বিচারাধীন

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, দেশে এ বছর ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৫৯টি মামলা বিচারাধীন। পারিবারিক আদালতের মামলাগুলোর দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তিনি পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগের কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ঢাকায় ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্ফ) কর্মসূচির উদ্যোগে ‘যথাসময়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারিবারিক আদালতের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন শীর্ষক একটি জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আরো বলেন, কার্যকর নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আইনগত সংস্কারগুলো কেবল আধুনিকায়নের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচারকে সহজপ্রাপ্য করে তোলাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। লিগ্যাল এইড আইনের সংশোধনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ফলে এখন মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা চালু করা হয়েছে। এটি বিরোধপূর্ণ বিচারপদ্ধতি থেকে সমঝোতার পথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এবং সেল্ফ ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনালী রানী উপাধ্যায় এবং সাতক্ষীরার সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট জাজ মো: তরিকুল ইসলাম।

পারিবারিক আদালতের দীর্ঘসূত্রতার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ৩১শে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৭৪

হাজার ২৫৯টি মামলা বিচারাধীন, যার মধ্যে ৫ হাজার ৩৪টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির

অপেক্ষায়। তবে একই সময়ে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ১০ হাজার ৮৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি

এটিকে বিচারক এবং বার নেতৃবৃন্দের ইতিবাচক জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ফল বলে উল্লেখ করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার-প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অদক্ষতা দূর করতে দেওয়ানি কার্যবিধির সাম্প্রতিক

সংশোধনের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা কার্যক্রমের স্তর কমানো হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও জটিলতা

কমাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বলেন, পারিবারিক আদালতে ন্যায়বিচার মানে জয় বা পরাজয় নয়; এটি মূলত একটি নিরাময় প্রক্রিয়া। আর এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমাদের এটিকে আরও সহজপ্রাপ্য, সহানুভূতিশীল ও দ্রুততর করতে হবে। তিনি এই কর্মশালাকে একটি ন্যায়সঙ্গত, দক্ষ এবং জনগণকেন্দ্রিক পারিবারিক বিচারব্যবস্থা গঠনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বলেন, এখানে বিচার বিভাগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে

ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে সবার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন