ভ্রুণ হত্যা ও নারী নির্যাতন

স্ত্রীসহ জামিন পেলেন খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল

স্ত্রীসহ জামিন পেলেন খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল

ভ্রুণ হত্যা ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের মামলায় ২৫ লাখ টাকা আপোসের শর্তে জামিন পেয়েছে গ্রেপ্তার বিপিএলের দল খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল আল মাহমুদ এবং তার প্রথম স্ত্রী ফিরোজা বেগম।

বিজ্ঞাপন

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্যাহ বাদীপক্ষের সাথে আসামিপক্ষের আপোসের শর্তে জামিনের এ আদেশ দেন।

এদিন বিকেলে আসামি ইকবাল ও তার প্রথম স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির আদালতে বলেন, বাদীর ২৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার শর্তে আপোস করতে চান। বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিমা বাঁধন আপোসের শর্তে আসামি জামিন পেলে বাদীর কোনো আপত্তি নেই বলে জানান।

এরপর বিচারক আসামিকে বলেন, কতো টাকায় আপোস করছেন। আসামি ইকবাল আল মাহমুদ আদালতকে বলেন, ২৫ লাখ টাকা। তখন আসামি দুইজনের মুখে মাস্ক ছিল। বিচারক তাদের মুখের মাস্ক খুলে কথা বলতে বলেন। আসামি ইকবাল ও তার স্ত্রী ফিরোজা মুখের মাস্ক খুলেন। বিচারক বলেন, টাকা কি চেকে দিবেন, নাকি নগদে? আসামি ইকবাল বলেন, চেকে দিব। তখন বিচারক বলেন, চেক ডিজঅনার হবে না তো? আসামি না বলেন। তখন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা চেক নয়, বরং নগদ ২৫ লাখ টাকা চান। এসময় বিচারক প্রথমে একদিনের ও পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুইদিনের জামিন দেন। এসময়ের মধ্যে বাদীকে আপোসের ২৫ লাখ টাকা দিতে বলেন। এরপর বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নিতে বলেন।

এদিকে জামিন শেষে তখনই কারামুক্ত হন আসামি খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল আল মাহমুদ এবং তার প্রথম স্ত্রী ফিরোজা বেগম। এরপর ইকবাল আল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি মামলা সম্পর্কে কিছুই জানি না। কাল অফিস করছিলাম, তখন আমাকে গ্রেপ্তার করে আনা হয়। মামলায় কি কি অভিযোগ করেছে সেটাও জানি না।'

এসময় ইকবাল মামলার বাদী তার স্ত্রী নয় বলে দাবি করে বলেন, 'কে মামলা করেছে তাকে চিনি না। এ মামলায় আমাকে ও আমার স্ত্রীকে (ফিরোজা) আদালতে আসতে হলো।' তবে ইকবালের সাথে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তিনি (ইকবাল আল মাহমুদ) হানি ট্রাপে পড়েছেন।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে না জানলেও কেন ২৫ লাখ টাকায় আপোস করা হলো জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, 'ইকবাল আল মাহমুদ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তার সম্মান জড়িত এখানে। কোর্টে আসা সহ হয়রানি ও ভোগান্তির মুখে পড়তে চান না তার মক্কেল। এজন্য বাদীর শর্ত মেনে নেয়া ছাড়া সহজ কোনো উপায় ছিল না। বাদী আসামির স্ত্রী নয়।'

এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিমা বাঁধন বলেন, 'আসামির ইকবালের সাথে বাদীর বিয়ে হয়। এরপর তাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হয়েছে। তার গর্ভের ভ্রুণ হত্যা করা হয়েছে।'

গত রবিবার বিকেলে খুলনা টাইগার্সের মালিক ইকবাল আল মাহমুদ এবং তার প্রথম স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার বাদী ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর ওই বিবাহে ডিভোর্স হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে আসামির সাথে বাদীর পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি বাদী এবং আসামি ৩০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে 'রয়েল টিউলিপ হোটেল' কক্সবাজারে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বাদীকে সে বিভিন্ন ধরনের মানসিক অত্যাচার করেন। পরবর্তীতে বিয়ের প্রায় ৭ মাস পর বাদীর নিজের গর্ভে সন্তানের গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন আসামি। বাদী গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় আসামি তাকে মারধর এবং মানসিক অত্যাচার শুরু করে।

পরবর্তীতে আসামি বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে এবং গর্ভপাত করায়। বাদীর অপারেশনের কারণে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে দাম্পত্য জীবন চলাকালীন অবস্থায় আসামি তার 'খুলনা টাইগার্স' নামক বিপিএল খেলায় টিম পরিচালনা অর্থাৎ তার ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কথা বলে যৌতুক হিসেবে টাকা দাবি করেন। বাদীর ব্যাংক একাউন্টের টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে যৌতুকের টাকা দেয়ার জন্য বাদীনিকে চাপ দিতে থাকে এবং বাদীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে বাদী নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সর্বসাকুল্যে ১৮ লাখ টাকা যৌতুক দেয়। এর মধ্যেই মামলার বাদী জানতে পারেন আসামির পূর্বের বউয়ের সাথে বৈবাহিক অবস্থা বিদ্যমান আছে এবং তার ২টি বাচ্চা আছে। আসামির মিথ্যাবাদী তার এরূপ চরম অবস্থার কারণে বাদী তার সাথে সংসার করবেন না বলে জানান এবং যৌতুক হিসেবে নেওয়া টাকা ফেরত চায় ও দেনমোহরের টাকা দাবি করে।

২০২৫ সালের ১ মে সর্বশেষ ঘটনার দিন বাদী আসামির গুলশানের বাসার সামনে গেলে তিনি দেখতে পান ইকবালসহ বাকি আসামিরা একসাথে গল্প করছেন। বাদী তার স্বামীর কাছে গিয়ে বিয়ের কাবিননামা ও তাহার যৌতুক বাবদ প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে তৎক্ষণাত বাদীকে অত্যন্ত বাজে ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামি বাদীকে সজোরে থাপ্পর মারে এবং হুমকি দিয়ে বলে, 'কাবিননামা ও টাকা চাইলে তোর হাত পা ভেঙে দিবো, জীবনে মেরে ফেলবো।' এ ঘটনায় পরে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন