সাধারণ আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারকাজ। প্রতিদিনের মতো আজও মামলার শুনানি করতে এজলাসে উঠেন বিচারক। এর আধ ঘন্টা পরই আইনজীবীদের বাধার মুখে এজলাস থেকে নেমে যান তিনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিচারকাজ শুরু হয়নি। খাসকামরায় ছিলেন বিচারক নূুরে আলম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে এজলাসে উঠেন বিচারক। এসময় আদালত চত্ত্বরে নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যর উপস্থিতিতে মামলার শুনানি করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। এরই মাঝে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যদের বাঁধার মুখে পড়েন বিচারক। এসময় হট্টগোল ও তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে বেলা ১২ টার দিকে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি খাস কামড়ায় অবস্থান করছেন। এর আগে গতকাল রবিবার এক আসামিকে জামিন না দেয়া সহ সদাচরণের অভিযোগে ঘটনার সুত্রপাত বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেই আসামির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান দীপু বলেন, আমার নেতৃত্বে আন্দোলন হয়নি। সাধারণ আইনজীবীরা সেই বিচারকের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে তার অপসারণ চেয়ে আন্দোলন করেছে। তিনি সবাইকে তার অধীনস্হ মনে করেন।
বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোন লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, লিখিত অভিযোগ এখনও দেয়া হয়নি তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা বারের নেতৃবৃন্দের কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মিরাজ উদ্দিন শিকদার বলেন, গত বৃহস্পতিবার জামিন নামঞ্জুর করার পর আজ বিচারক এজলাসে ওঠেন। কিছুক্ষণ বিচার কাজ পরিচালনা করেন বিচারক। তবে আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে দশ মিনিট পর এজলাস থেকে নেমে খাসকামরায় চলে যান তিনি।
এর আগে গতকাল রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের সামনে বিচারককে অপসারণ করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা। ওইদিন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো: মিরাজ উদ্দিন শিকদার জানান, গত ৬ ফেবরুয়ারি বেলা ১২ টার দিকে এক আসামির জামিন নামঞ্জুর করায় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বিচারককে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ ঝাড়েন। এসময় বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামড়ায় চলে যান।
এদিকে আন্দোলনরত আইনজীবীরা জানান, এই বিচারক নিয়মিত আইনজীবীদের ও বিচার প্রার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন। একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত না। প্রতিনিয়ত তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। এজন্য আমরা তার অপসারণ চাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

