জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রীর নামে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার বেলা ৩ টার দিকে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে দুই কোটি নয় লাখ ২৭ হাজার ৯৩১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জন ও ভোগ দখলে রেখে এবং তার ব্যাংক হিসেবে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত মোট দুই কোটি ৮৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৯ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ফারহানা রহমান, স্বামী শেখ রফিকুল ইসলামের নামে ৩৯ লাখ দুই হাজার ২২৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে ও ভোগ দখলে রেখে এবং তার স্বামীর পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দ্বারা স্ত্রীর নামে বর্ণিত ৩৯ লাখ দুই হাজার ২২৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রফিকুল দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তরের ইউএন (ইউনাইটেড ন্যাশন) শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। জাতিসংঘের মিশনে যাওয়ার জন্য যে সব পুলিশের সদস্য তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতেন, তাদের তিনি মিশনে পাঠাতে সুপারিশ করতেন পুলিশের অ্যাডমিন শাখায়। সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য আইজিপি বরাবর অভিযোগ করলেও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়ার কারণে তিনি পার পেয়ে যান। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে রফিকুল সাবেক আইজিপি বেনজীরের লোক বলে পরিচিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

