সৌদি রাষ্ট্রদূত ছাড়া আর কারো সাথে আমার সম্পর্ক নেই : আদালতকে মেঘনা

সৌদি রাষ্ট্রদূত ছাড়া আর কারো সাথে আমার সম্পর্ক নেই : আদালতকে মেঘনা

মিস আর্থ বাংলাদেশ- ২০২০’ বিজয়ী মডেল মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসার সাথে তার সম্পর্ক ছিল। এছাড়া আর কারো সাথে তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন এই মডেল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়ার আদালতে সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বুধবার মেঘনাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার এবং তার সহযোগী সানজানা ম্যান পাওয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক দেওয়ান সমিরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশ। পরে তাদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন আদালত।

বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী মেঘনাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত আসামিরা অভিনব কৌশলে বিদেশি রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন বিদেশি নাগরিকদের হানি ট্র‍্যাপে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতারক চক্র তৈরী করে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতারণা করে আসছে। সবশেষ সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদি আদালতে মেঘনা আলমকে মেঘলা আলম বলে সম্বোধন করে শুনানি করার এক পর্যায়ে মেঘনা তার নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করার জন্য বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, 'আমার নাম মেঘনা আলম, মেঘলা নয়।

এরপর বিচারক আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কিনা জানতে চান। মেঘনা আলম আদালতকে বলেন, কোন আইনজীবী নেই। এরপর তিনি কথা বলাী অনুমতি চান।

আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, আমার নাম মেঘনা, মেঘলা নয়। সৌদি রাষ্ট্রদূতের কথা বলা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন যে কেউ চাইলে কি সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করতে পারে? আপনারা কি তার কাছে যেতে পারবেন?

বিচারক তাকে থামিয়ে মামলা সম্পর্কে কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান। এরপর মেঘনা আবার বলেন, আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে কোনো আইনজীবী পাবেন না। বিষয়টি হল রাষ্ট্রদূত ইসার সাথে আমার একমাত্র সম্পর্ক আর কারো সাথে নাই। সৌদি রাষ্ট্রদূত ইসার সাথে আমার বিয়ে হয়। এরপর ইসা অভিযোগ করেন, আমি নাকি তার বাচ্চা নষ্ট করে ফেলেছি। এটা মোটেও সত্য না। এ বিষয়ে আমি ইসার সাথে কথা বলি। তাকে এসব তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলি। এসব বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি শফিকুরের সাথেও আমার কথা হয়। এরপরেই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে দেওয়ান সমির আদালতকে বলেন, 'আমাকে মেঘনা আলমের বয়ফ্রেন্ড বলা হচ্ছে। এটা ভুল তথ্য, তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি সাধারণ একজন মানুষ। দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমি মামলার এসব ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না।

শুনানি শেষে মেঘনাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। একই সাথে সমির দেওয়ানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় যাওয়ার পথে মেঘনা আলম বলেন, একমাত্র ইসার সাথে আমার সম্পর্ক আর কারো সাথে সম্পর্ক নেই। আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছিনা। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরে হাজতখানায় নিয়ে যান।

গত ৯ এপ্রিল রাতে মডেল মেঘনা আলমকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে আটক করে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ১০ এপ্রিল রাতে তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিন আটক রাখার আদেশ দেন আদালত।

এদিকে দেওয়ান সমিরকে গ্রেপ্তার করার পর ১২ এপ্রিল ভাটারা থানার প্রতারণার মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পরে তাদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেঘনা আলম, দেওয়ার সমিরসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্রের কূটনীতিক, প্রতিনিধি ও দেশীয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে কৌশলে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ পথ অবলম্বন করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন