বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষে পুলিশের ভূমিকা ছিল: আদালত

বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষে পুলিশের ভূমিকা ছিল: আদালত

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। বিএনপির ডাকা সেই মহাসমাবেশে সংঘর্ষে পুলিশের ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসাইনের আদালত যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় রিমান্ড শুনানির সময় পুলিশের সাবেক এডিসি শাহেন শাহকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

এদিন শাহেন শাহের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ। এসময় শাহের শাহের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে আদালতে শুনানি করেন তার আইনজীবী।

তিনি বলেন, শাহেন শাহ পুলিশে অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করেছেন। একজন অ্যাডমিনের কাজ কে কোথায় ডিউটি করবে, এসব তদারকি করা। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করছি।

এর জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ডিবির হারুন ও শাহেন শাহ রমনার জোনের দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপির মহাসমাবেশ বানচালের জন্য পরিকল্পনা করেন তারা। পরবর্তীতে তাদের সহায়তায় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সমাবেশ ডাকলে আওয়ামী লীগও পাল্টা সমাবেশ ডাকতেন। ওই সমাবেশের নাম দিতেন শান্তি সমাবেশ। কিন্তু তাদের হাতে থাকতো অস্ত্র, লাঠি ও সোঁটা। আর এতে হারুন, শাহেন শাহের নির্দেশে সহায়তা করতো পুলিশ বাহিনী। সেদিনের সমাবেশে আমিও উপস্থিত ছিলাম। জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা চালানো হয়। সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করে তারা। গাজায় আজ যেমন পরিস্থিতি, সেখানেও ওই রকম পরিস্থিতি হয়েছিল। ভীতিকর অবস্থা। কী অবস্থা বর্ণনা করা যায় না। আমরা মামলা করতে যাই। হাসিনার নির্দেশে মামলা নেয়া হয় না।

পাল্টা জবাবে শাহেন শাহের আইনজীবী বলেন, এজাহারে তার কথা কোথাও উল্লেখ নেই। তিনি এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না।

এরপর আদালত শাহেন শাহ ও তার আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের পিটিশনে আছে উনি তখন ডিবি পুলিশের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় পুলিশের কি ভূমিকা ছিল, আমরা সেটা টিভিতে দেখেছি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকা হয়। মহাসমাবেশ পণ্ড করতে একই দিনে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ ডাক দেয়। এসময় বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা ও গুম করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পুলিশের সহায়তায় মহাসমাবেশে হামলা চালানো হয়। হামলায় যুবদল নেতা শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় নিহত শাহেন শাহকে ৪৯ নম্বর আসামি করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন