ধর্ষকের বিচারের দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল, ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

ধর্ষকের বিচারের দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল, ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

সারা দেশে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে মশাল মিছিল ও ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রোববার রাত দশটায় ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের পাদদেশে এসে শেষ হয়। অপরদিকে আরেকটি মিছিল ফজিলাতুন্নেছা হল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে এসে জড় হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা।

বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহসান ইমাম বলেন, কোনো বয়সী নারীই ধর্ষকের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। আমরা এই বাংলাদেশ দেখতে চাই না। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ দেশ চাই। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

JU-2

এ সময় ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাইজা মেহজাবীন বলেন, বিগত পনেরো বছরে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখেছি। আমরা আর কতদিন এই সংস্কৃতি দেখব। আমরা এই চব্বিশে এতো রক্তের বিনিময়ে দেশ পেয়েছি। আমরা ধর্ষণ মুক্ত দেশ চাই, নিপীড়ন মুক্ত দেশ চাই।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। রাত ১০টা ৫৫ থেকে ১১টা ২৫ পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের সহ–মুখপাত্র মালিহা নামলা বলেন, আজকে আসিয়ার খবরটা যদি ভাইরাল না হতো তাহলে কি আসিয়ার চিকিৎসাও হতো? নাকি আসিয়ার ধর্ষকের বিচারের দাবিতে আমরা এখানে থাকতাম? এরকম হাজার হাজার আসিয়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আছে, আমাদের আশেপাশেই আছে। এই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশাসনকে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে নারী-শিশু কেউই কখনোই ধর্ষণের শিকার না হয়।

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমরা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেখেছি। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা সেই একই ধরনের সংস্কৃতি দেখছি। শুধু ধর্ষণ নয় নারীদের প্রতিনিয়ত হেনস্তা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিং করা হচ্ছে। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ দেশ চাই।

ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের মুখপাত্র সাইয়েদ শাওলি বলেন, আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়ে যে লাগাতার ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদ করছি। সেই প্রত্যেকটি ধর্ষণকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদেরকে শনাক্ত করতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই রাষ্ট্র অপরাধীদেরকে বিচারের আওতায় আনবে। যদি তা করা না হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই ইন্টেরিম সরকার পূর্বের স্বৈরাচারী সরকারের মতো নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন